অতীতের মত উল্টে যাবে নাতো বুথ জরিপ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৫৮ পিএম, ২১ মে ২০১৯ মঙ্গলবার

সম্প্রতি শেষ হয়েছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ২৩ মে বৃহস্পতিবার। তবে তার আগেই বুথ ফেরত জরিপে ক্ষমতাসীন বিজেপি আবারো বড় জয়ে ক্ষমতায় আসছেন বলে জানানো হয়েছে। বুথ ফেরত জরিপের ওপর ভর করেই সরকার গঠনের ছক আঁকতে শুরু করেছে বিজেপি। তবে বুথ ফেরত জরিপও যে উল্টে যেতে পারে তার প্রমাণ ভারতের নির্বাচনে রয়েছে। ২০০৪ সালে বুথ ফেরত জরিপ উল্টে গিয়ে হেরেছিল বাজপেয়ী সরকার।

১৫ বছর আগে বুথ ফেরত জরিপ দেখা গিয়েছিল অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ ফের ক্ষমতা ফিরছে৷ কিন্তু প্রকৃত ফল হতাশ করেছিল তৎকালীন বিজেপি সরকারকে৷ এবার ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের বুথ ফেরত জরিপ রবিবার ইঙ্গিত দিয়েছে ফের ক্ষমতায় ফিরছে মোদি৷ কিন্তু বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সেই ২০০৪ সালের পুরনো কথা মনে করিয়ে সতর্ক করেছেন৷

সেবার বেশির ভাগ বুথ ফেরত জরিপ জানিয়েছিল, অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ ভাল মতো এগিয়ে থাকবে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের থেকে৷ মোটের ওপর তখন বলা হয়েছিল এনডিএ ২৭২ ম্যাজিক ফিগার থেকে যদি সামান্যই কমও পায় তা দু’একটা জোটসঙ্গীর সমর্থন নিয়ে উতরে যাবে৷ বাস্তবে তার থেকে অনেক কম আসন পায়৷ সেই বার এনডিএ দু’শো পেরোতে পারেনি, ১৮৯ তে আটকে গিয়েছিল৷

সেবার প্রকৃত ফল বার হতে, দেখা গিয়েছিল এনডি পেয়েছিল ১৮৯টি আসন অন্যদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ইউপিএ পেয়েছিল ২২৫টি আসন এবং অন্যান্যরা পেয়েছিল ১২৯টি আসন৷ অথচ বিভিন্ন বুথ ফেরত জরিপ জানিয়েছিল, এনডিএ পাচ্ছে ২৪৮-২৭৮টি আসন৷

২০০৪ সালে বিজেপি ভোটের প্রচারে নেমে ‘ইন্ডিয়া শাইনিং’ স্লোগান তুলেছিল৷ ভোটের পরে প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি স্বীকার করেছিলেন, ওই শব্দ দ্বয় ব্যবহার নিজেদের মধ্যে বৈধ হলেও নির্বাচনী প্রচারের জন্য অনুপযুক্ত ছিল। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সেই সময় ভোটের প্রচারে এটাকে ব্যবহার করতে গিয়ে বিরোধীরা সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল দেশের আরও অনেক কিছু আছে যা তুলে ধরা যায়৷ যেমন দারিদ্র, বেকারত্ব, অসম উন্নয়ন। আর সেগুলি তুলে ধরে বিরোধীরা প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল তৎকালীন সরকারের দাবিকে৷

২০১৯ সালে মোদী প্রচারে তুলে ধরতে চেয়েছেন, সামগ্রিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক কাম্য অবস্থা৷ ২০০৪ সালেও বিরোধীরা একত্রিত ছিল না৷ যদিও ২০টি বিরোধী দল নীতিগত ভাবে জোট করে এনডিএর বিরুদ্ধে৷ তবে এদের কেউ কেউ নিজেদের বিরুদ্ধে লড়েছিল কোনো কোনো কেন্দ্রে৷ ২০০৪ সালে বাম দলগুলি, বিএসপি, এসপি, টিডিপি, এবং জনতা দল (সেকুলার) সহ কয়েকটি দল কংগ্রেসে থেকে দূরে ছিল ভোটের সময়৷ পরে অবশ্য কংগ্রেস সরকার গড়লে এরাই এগিয়ে আসে সরকারে না গেলেও বাহিরে থেকে সমর্থন জানাতে৷

এটা ঠিক ২০০৪ এর সঙ্গে ২০১৯ সালের অবস্থার ফারাক রয়েছে৷ বিজেপির এবার অনেক বেশি ভোটের ভিত্তি রয়েছে৷ ১৯৯৯ সালে বিজেপির ভোট ছিল ২৩.৮ শতাংশ যেখানে ২০১৪ সালে ভোট ছিল ৩১.৩ শতাংশ৷ তাছাড়া সাংগঠনিক দিক থেকে বিজেপি এবার অনেক বেশি রাজ্যে শক্তিশালী৷ ফলে দলের দিক থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিতে৷

নীতিগত ভাবে গেরুয়া দল অনেক বেশি খরচ করেছে পূর্বের রাজ্যগুলিতে যাতে উত্তরের রাজ্যগুলিতে ক্ষতি হলেও তা পুষিয়ে যায় এখান থেকে৷ যা ২০১৪ সালে ছিল না৷ সুতরাং বুথ ফেরত জরিপ ঠিক থাকবে নাকি উল্টে যাবে তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।

/smc