উন্নয়নে পাল্টে যাচ্ছে রাজশাহী নগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৪:২৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৪:২৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০ মঙ্গলবার

রাজশাহী নগর সড়ক উন্নয়নে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে নগরীর বিভিন্ন সড়কের উন্নয়ন। এখন নগরীর প্রধান সড়কগুলোর সঙ্গে পাল্টে যেতে শুরু করেছে নগরচিত্র। যে দিকে চোখ যায়, সে দিকে ঝকঝকে-তকতকে রাস্তা।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দায়িত্ব গ্রহণের থেকেই পাল্টাতে শুরু করেছে নগরীর সড়কের এই চিত্র। ভাঙ্গা আর খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট পেয়েছে নতুন রূপ। এতে খুশি নগরবাসী। শুধু সড়ক নয়, আলোকায়নম নগর অবকাঠামো থেকে শুরু করে নগর সৌন্দর্য সব পাল্টে যাচ্ছে দ্রুত।

সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নিয়মিত তদারকিকে ক্রমেই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠছে রাজশাহী নগরী। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে তাই দেশের সব নগরের চেয়ে রাজশাহীও পেয়েছে আলাদা স্বীকৃতি। উন্নত পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে ইতোমধ্যে পুরস্কারও পেয়েছেন মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

রাজশাহী নগরে এখন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সড়কের উন্নয়ন কাজ। রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজের বাসভবনের প্রধান ফটকের সামনে থেকে কালেক্টরেট মাঠের পাশ দিয়ে সার্কিট হাউস পর্যন্ত রাস্তার কার্পেটিং কাজ শুরু হয়েছে। এসব কাজ মেয়র নিজে পরিদর্শন করছেন। কাজের অগ্রগতি ও গুণগতমানের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। কাজের মান যথাযথ রেখে দ্রুতই কাজ সম্পন্নের নির্দেশ দিচ্ছেন। এদিকে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রাস্তাপ্রশস্তকরণ ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়নের কাজ চলছে।

ইতোমধ্যে তালাইমারি থেকে ভদ্রা হয়ে শিরোইল বাস টার্মিনাল, নগরীর রাণীবাজার থেকে সাগরপাড়া রাস্তা, দড়িখরবোন মোড় থেকে উপশহর পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নগরীর আলিফ লাম মিম ভাটা মোড় থেকে মেহেরচন্ডী পর্যন্ত ফোরলেন রাস্তা এবং ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শেষের পথে। নগরীর বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত বাইসাইকেল লেনসহ সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ এবং দড়িখরবোনা মোড় থেকে মহিলা কলেজের সামনে হয়ে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ চলছে।

এছাড়া ১৭৩ কোটি টাকার রাজশাহী মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। ভেড়িপাড়া মোড় থেকে পুলিশ লাইন হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে হয়ে রিভার-ভিউ কালেক্টরেট স্কুলের সামনে দিয়ে পুলিশ অফিসার্স মেসের সামনে হয়ে হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পর্যন্ত ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিশাল বিস্কুট ফ্যাক্টরি মোড় পর্যন্ত সম্প্রসারিত রাস্তা, হেঁতেমখা এলাকা, শহীদ নজমুল হক স্কুলের সামনের রাস্তা, চকপাড়া স্কুল থেকে চকপাড়া বটলতা মোড়, রাজশাহী চেম্বার অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ের পাশ থেকে বেঙ্গল ফার্নিচার পর্যন্ত, জিয়া শিশুপার্ক থেকে রাজশাহী বাইপাস, নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকাসহ ৩০টি ওয়ার্ডের অলি-গলির রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে। বিভিন্ন রাস্তার সঙ্গে চলছে ড্রেনেরও কাজ।

এদিকে রাজশাহী নগরকে সাজাতে আসছে তিন হাজার কোটি টাকার মেগাপ্রকল্প; যা এই মাসেই একনেকে পাস হবে বলে আশা করছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরের গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নগরীতে ৬টি ফ্লাইওভার নির্মাণ, ৫০টি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নির্মাণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৭টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ৩০টি গণশৌচাগার নির্মাণসহ গোরস্তানে ও জলাশয়ের ধারে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ প্রায় ৬৯টি ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ, ১৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ, ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন এবং ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন। চলতি মাসে তিন হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রকল্প অনুমোদন হলে নগরীর উন্নয়নে মাইলফলকে স্পর্শ করবে। নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনে অযান্ত্রিক যানবাহন লেনসহ চারলেন সড়ক নির্মাণ করা হবে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার, কার্পেটিং সড়ক নির্মাণ করা হবে ৩৬৮টি যার দৈর্ঘ্য হবে ৯৯.৫৬ কিলোমিটার, কার্পেটিং সড়ক পুনর্নির্মাণ করা হবে ২৫৮টি সাড়ে ৩ মিটার চওড়া সড়ক যার দৈর্ঘ্য হবে ১০৬ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার, কার্পেটিং সড়ক প্রশ্বস্তকরণ করা হবে ৫৩টি যার দৈর্ঘ্য হবে ৩০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার, সিমেন্ট কনক্রিট সড়ক নির্মাণ করা হবে এক হাজার ৮০৭টি যার দৈর্ঘ্য ১৮৫.৩০ কিলোমিটার।

সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, গত বছর জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। আশা করছি এই মাসেই প্রকল্পটি একনেকে পাস হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ নতুন রূপে গড়ে উঠবে নগরী। মানুষের বসবাসের জন্যও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।