করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন রংপুরের শাহ আলম

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:০৯ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার | আপডেট: ০৯:১৩ পিএম, ২৪ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার

করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন রংপুরের শাহ আলম( ৫৫)। বগুড়ায় করোনা রোগী হিসেবে শাহ আলম প্রথম শনাক্ত হয়েছিলেন।

বগুড়ার মহাস্থানে রাস্তায় পড়ে থাকা শাহ আলমকে একজন সংবাদকর্মীর সহযোগীতায় পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা ২৬ দিন হাসপাতালে করোনার সাথে লড়াই করে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ।

শুক্রবার বগুড়ার করোনা আইসোলেশন ইউনিট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।অ্যাম্বুলেন্স যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে শাহ আলম ও তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নূরুজ্জামান সঞ্চয় ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল।

রংপুর সদর উপজেলার ধাপের হাটের বাসিন্দা শাহ আলম ঢাকা থেকে ট্রাকযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। ২৯ মার্চ ভোর রাতে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ট্রাকের ড্রাইভার-হেলপার করোনা রোগী সন্দেহে শাহ আলমকে বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে মহাস্থান এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে যায়। সকালে স্থানীয় লোকজন করোনা রোগী সন্দেহে তাকে ঘিরে রাখে।

পরে স্থানীয় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ভ্যানগাড়িতে করে শাহ আলমকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শাহ আলম জানান, তিনি অ্যাজমা ও হার্টের রোগী। সেই অনুযায়ী প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শাহ আলমকে পাঠানো হয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে। শজিমেক হাসপাতালে হৃদরোগ ইউনিটে ওইদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার ব্যাপক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এ কারণে তাকে স্থানান্তর করা হয় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে।

 সেখানে করোনা সন্দেহে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা করে করোনা পজেটিভ ফলাফল এলে ছড়িয়ে পড়ে আতংক। শাহ আলমই বগুড়ায় প্রথম করোনা রোগী হিসেবে সনাক্ত হন। এরপর শজিমেক হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স, শিবগঞ্জ থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ, ভ্যানচালক, অ্যাম্বুলেন্স চালক, সাংবাদিকসহ ২৪ জনকে পাঠানো হয় কোয়ারেন্টাইনে।

এছাড়াও শাহ আলমকে দেখতে আসা তার স্ত্রী সাজেদা বেগমকে আইসোলেশনে রাখা হয়। তার জামাই রংপুরে ফিরে যাওয়ায় সেখানে তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।

এদিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাহ আলম দিনে দিনে সুস্থ হয়ে উঠেন এবং তার স্ত্রীর মধ্যেও কোন উপসর্গ দেখা দেয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরপর তিন বার স্বামী-স্ত্রীর নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল করোনা নেগেটিভ আসে। সেইসাথে কোয়ারেন্টাইনে থাকা সকলের রিপোর্টই নেগেটিভ বলে নিশ্চিত করে আইইডিসিআর।

শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে উচ্ছাসিত হয়ে ওঠেন শাহ আলম। বলেন, মৃত্যুর দুয়ার থেকে তিনি ফিরে এসেছেন। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে তাকে সুস্থ করেছেন। এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তবে শঙ্কা প্রকাশ করেন তার স্ত্রী সাজেদা বেগম। তিনি বলেন, বাড়ি ফেরার পর লোকজন তাদের একঘরে করে (সমাজচ্যুত) করে রাখতে পারে। তিনি এমন পরিস্থিতি যেন না হয় এজন্য সকলের সহযোগিতা চান।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিক আমিন কাজল বলেন, শাহ আলমকে সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় আবারো দুইবার নমুনা পরীক্ষা করে ফলাফল নেগেটিভ হওয়ায় ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, শাহ আলম এখন পুরোপুরি করোনা মুক্ত। নিকটাত্মীয়রা তার সংস্পর্শে আসতে পারবেন। তিনি যেন সামাজিক ভাবে হেনস্তার শিকার না হন, সেজন্য সমাজের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ডা. শফিক আমিন কাজল।

স/র