করোনা ঠেকাতে রাজশাহীতে বাস বন্ধ থাকায় ট্রেনে চাপাচাপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:১৩ পিএম, ২০ মার্চ ২০২০ শুক্রবার

রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় বিদেশ ফেরত ৬২৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। এরমধ্যে ২৩জন রাজশাহী জেলার। অন্যরা বিভাগের সাতটি জেলার। এদের মধ্যে কারো শরীরে কোরোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকায় ভ্রাম্যমান আদালত ৯জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানা করেছে।

এদিকে শুক্রবার রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ বিভাগের বাইরে দুরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। বাস বন্ধ থাকলেও চালু ছিলো ট্রেন। তাই ট্রেনে যাত্রীদের ভীর বেশি দেখা গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সবাই বিদেশ ফেরত। তাদের সবাইকে নিজ গৃহে একা থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এদের মধ্যে কাউকেই করোনা আক্রান্ত বলে সনাক্ত করা হয়নি। এদিকে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারে মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট বিলি করেছে। এসময় নিত্যপণ্যের দাম ঠিক রাখতে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেন তারা।

বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানান, রাজশাহী বিভাগে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। চিন্তার কিছু নেই। তবে কেউ যদি খাদ্য সংকটের কোন ধরনের গুজব ছাড়ায় এবং মজুদ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে ভীতি সৃষ্টি করা হলেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার।

পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজ আক্তার বলেন, করোনা নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে কিনা সেদিকে পুলিশের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। সভা-সমাবেশ ছাড়াও পারিবারিক অনুষ্ঠানও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেটিও পুলিশ দেখছে। এছাড়াও বিদেশ ফেরতরা কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন কি না পুলিশ তা নিয়েও তদারকি করছে।

জেলা প্রশাসক হামিদুল হক জানান, হোম কোয়ারেন্টিনে না থাকায় বিদেশ ফেরত ৯জনকে সাজা দেয়া হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য সচেতন করা হয় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এদিকে শুক্রবার সকালে রাজশাহী জেলা পুলিশের উদ্যোগে সচেতনতামূলক লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে জনসাধারণের মাঝে লিফলেট ও মাস্ক বিতরণ করেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহিদুল্লাহ। রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী জানান, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে সব সেক্টরের সাথে আলোচনা করে দুরপাল্লার বাস বন্ধ রেখেছেন। এতে করে ট্রেনে চাপ বেড়েছে।

তিনি বলেন, ট্রেনের চাপ বাড়ায় সেখানেও করোনা ছড়ানোর আশংকা রয়েছে। তাই বাসের সঙ্গে ট্রেনও বন্ধ রাখা উচিত হবে।

স/র