করোনা পরিস্থিতি: মৃদু তর্ক

আতোয়ার হোসেন

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার

দেখা যাচ্ছে যে, সাংবাদিকরা অনেকে বলছেন যেন লোকে ঘর থেকে বের না হয়। কাউন্টারে কিছু সাংবাদিক যুক্তি দেখাচ্ছেন যে, যারা ঘর থেকে বের হয়, পেটের তাগাদায়ই বের হয়।

মাঠ থেকে তথ্য দিবো বলে প্রচার করা সাংবাদিকদের আবেগের বিপক্ষে বলা হচ্ছে যে, যারা পেটের জন্য বের হয় তাদের তথ্য জানার দরকার কী? তথ্য নাকি পেটে ভাত দেবে না।

তথ্য যে পেটে ভাত দিতে পারে তা তর্কাতীত সত্য। আলোচনাটা চলতে পারে। এখানে শুধু টপিক টাচ করতে চাই। আপনি মিলিয়ে নিতে পারবেন।

কোয়ারেন্টিন (কোয়ারেন্টাইন), হোমকোয়ারেন্টিন (হোমকোয়ারেন্টাইন), আইসোলেশন শব্দগুলো এখনো পর্যন্ত সাধারণের কাছে সহজ করে পৌঁছানো যায়নি। গণজমায়েত কেন এবং কিভাবে এড়িয়ে চলবেন তা পাবলিক বুঝতে পারছে না। স্কুলগুলো ছুটির সময় বাচ্চাদের প্রতি এবং অভিভাবকদের প্রতি কোনো বিশেষ নির্দেশনা দেওয়ার তথ্য পরিষ্কার নয়।

এমনকি মাস্কের ব্যবহার, মাস্কের ধরণ, নিরাপত্তা ইস্যু, করোনা হলো কিনা, কিভাবে বুঝবেন, সন্দেহ করবেন কখন, সন্দেহ হলে কী করবেন বা আসলেই আপনার করার কিছু আছে কিনা তা কাউকে না কাউকে আগ্রহী হয়ে জানান দিতে আসতে হবে।

টেস্ট করাতে পারবেন কোথায়, পজিটিভ হলে কী করণীয়, নিকটস্থ কী কী ব্যবস্থা আছে, কেউ বিদেশ থেকে এলে প্রতিবেশীদের করণীয় কী হতে পারে বা ইত্যাদি নানান টপিকে সাধারণরা নিতান্ত অজ্ঞতাজনিত কারণে বা উদাসীনতার কারণে করোনার অনুকূলে আচরণ করে যাচ্ছে।

দায় রাষ্ট্রের বা সাংবাদিকদের বা বুদ্ধিজীবীদের হতে পারে। আমি অন্তত নিশ্চিত হতে পারছি না। কিন্তু সাধারণরা বা করোনা আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশে ঢোকা সুনির্দিষ্ট পরবাসীরা যে বিষয় বোঝেনি ঠিকঠাক, তা বোঝার জন্য এখন কোনো পিএইচডি করার দরকার হচ্ছে না। তাদের সামনে বোধগম্য করে পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারলে নিশ্চয়ই করোনা আটকানো সহজ হত আমাদের।

আক্রান্ত/সন্দেহজনক ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে মাত্র ১৪ দিন আলাদা করে রাখতে পারলেই তো মিটে যেত সব। নয় কি?

তো, এই যে কমন আলাপটা তুলছি আমি, এসব কি তথ্যসংক্রান্ত বিষয় নয়?
এরকম করে আরো কথা বলা যাবে।

শুধু অস্বীকার করলে হবে না যে, তথ্য সবার জন্যই দরকার।

এমতাবস্থায়, আমার মন্তব্য যে, সাংবাদিকদের ছেঁড়া বিষয়ক প্রশ্ন তুলছেন যারা তারা ঠিক কাজ করছেন না।

সময় তো সত্যিই আবদ্ধ থাকার। দেশ জুড়ে অবাধ দশা এখন। যাদের বাধ্যতামূলক ঘরে থাকার কথা তারাও মহানন্দে বিচরণ করছে। সচেতনতার চরম উদাসিন অবস্থা বিরাজ করছে।

মহামারিতে ঢুকে গেলে কার পেটে কে কী সরবরাহ করতে পারবে তা দেখার বিষয় এবং দেখতে পাওয়া যাবে।

কোনটা আগে?

ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হবে।

তো, সেই তরফে,

সাংবাদিকদের পাবলিকের প্রতি ঘরে ঘরে থাকার আহ্বান এবং অযথা বিচরণ রোধে পরোক্ষ ভূমিকা রাখাটা দরকারি এবং ভালো কাজ।

তাতে একটা প্রচ্ছন্ন চাপ তৈরি হতে পারে তাদের উপর যারা ঘরে থাকতে পারে কিন্তু থাকছে না। গুষ্ঠিসুদ্ধা মরার চেয়ে, ভাতের কষ্ট মানতে রাজি হতে পারেন আপনিও।

একইসাথে সাংবাদিকরা যেমন ডাক্তার-পুলিশের মতো মাঠের মানুষ, তাদেরকে তো বাধ্য হয়েই মাঠে থাকতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ আলোচনা জোরদার করা উচিৎ।

যদি অফিসগুলো সত্যিই শতভাগ ঘরে বসে সাংবাদিকতার সুযোগ দিতে পারে, মাঠে থাকার দরকার নাই? আছে। ন্যূনতম সংখ্যায় হলেও মাঠের সাংবাদিকতাও লাগবে এবং থাকবে। ফলে তাদের আবেগকে তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা, জ্ঞানত বা না জেনে, যারা করছেন, ঠিক হচ্ছে না। বরং সিস্টেমের বিরুদ্ধে আলাপ তোলেন। সিস্টেমের ভুল ধরে দেন। সংশোধন বা নয়া পদক্ষেপের তাগাদা দেন।

সর্বোপরি, হুজুগে পড়ার অভ্যাস থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিন। করোনা মোকাবিলায় আপনার সর্বোচ্চ জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সক্ষমতাকে ব্যবহার করুন। সবার আগে ভেবে কাজ করুন।

ঘর থেকে বের হবার আগে নিজে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনার বের হওয়াটা পরিস্থিতি বিবেচনায় কতটা আবশ্যক। যদি আবশ্যক হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিন আগে। করোনা ভাইরাস মারাত্মক ছোঁয়াচে।


লেখক: সংবাদকর্মী