কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৪:৪৭ পিএম, ৪ মে ২০২০ সোমবার

মানুষকে সুরক্ষিত রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও রোজার কারণে জেলাভিত্তিক ক্ষুদ্রশিল্পসহ কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকালে রংপুর বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময়কালে তিনি একথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সুরক্ষিত রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার চেষ্টা চলছে। এজন্য জেলাভিত্তিক ক্ষুদ্রশিল্পসহ কিছু কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোজার মাস উপলক্ষে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে কিছু জিনিস উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেখানে সবাইকে নিজেকে ও অপরকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

 চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, শিগগিরই নির্বাচিত ৫ হাজার ৫৪ জন নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। যাদের করোনাভাইরাসের চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীসহ নিজ দলের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকজন পুলিশ মারা গেছেন। তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকের কবর খুঁড়তেও পুলিশ সহযোগিতা করছে বলে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া যারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সবাইকে ধন্যবাদ দেন। কয়েকজন মিডিয়াকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন উল্লেখ করে বলেন, তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখবেন।

ব্যবসার জন্য যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের দুই মাসের সুদ স্থগিত করা হয়েছে। এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে কথা বলছেন বলে জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ১০ টাকায় চাল কেনার জন্য আরও ৫০ লাখ রেশন কার্ড সুবিধা দেয়া হবে। যাদের আয়-উপার্জনের পথ নেই, তাদের ঈদের আগে নগদ অর্থসহায়তা দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী আবারও কৃষির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এবার ২১ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হবে। আশা করি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে খাবারের সমস্যা হবে না।

তিনি বলেন, করোনার কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি থমকে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাবে দেশের মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে সব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

রংপুর বিভাগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি রংপুরকে বিশেষভাবে বলে রাখছি, যেহেতু এটা মঙ্গাপীড়িত এলাকা ছিল। যারা একটু সচ্ছল, প্রশাসন বা আমাদের নেতাকর্মী যারা আছেন, সবাইকে অনুরোধ করব, এই এলাকায় যেন আবার মঙ্গা ফিরে না আসে। সে জন্য বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। সেখানে কোনো দুস্থ লোক থাকলে তাদের সাহায্য করতে হবে।

‘আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে খাদ্য মজুত আছে। কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। আর মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তদের মধ্যে যারা হাত পাততে পারছেন না, তাদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছি। সেই সঙ্গে দেখবেন রংপুরে যেন আবারও মঙ্গায় পড়ে না যায়। হবে না ইনশা আল্লাহ। যা দরকার আমরা সে ব্যবস্থা করব।

স/র