কে আসছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ পিএম, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আগামী ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এতে নেতৃত্ব পেতে প্রায় এক ডজন নেতা এখন মুখিয়ে আছেন। রাজনৈতিক জীবনের নানা ত্যাগ-তিতিক্ষা সম্বলিত জীবন বৃত্তান্ত বানিয়ে তারা ছুটে চলেছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। শুধু তাই নয়, বিলি করছেন সংবাদকর্মীদের কাছেও। চলছে ফেসবুকেও প্রচারনা। 

২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজশাহী আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে সভাপতি ও আসাদুজ্জামান আসাদকে সাধারণ সম্পাদক করে দুই সদস্যর কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে তাদের নেতৃত্বেই গঠিত হয় ৭১ সদস্যর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

শুরুতে সভাপতি-সম্পাদকের মধ্যে মধুর সম্পর্ক থাকলেও জেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। পরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের হস্তক্ষেপে দুই নেতা আবারো এক সাথে সভায় বসেছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনকে সফল করতে অবশ্য তারা এখন এক সঙ্গে কাজও করছেন।

এদিকে এই সম্মেলনকে ঘিরে এখন পুরো জেলায় আলোচনা চলছে। কে পাচ্ছেন নতুন নেতৃত্ব? পুরনোরাই নাকি নতুন কোন নেতৃত্ব আসছেন? এ নিয়েই চায়ের স্টলগুলোর আলোচনা জমে থাকছে।

এবার পুরনো দুই নেতা ছাড়াও নেতৃত্ব পেতে চাচ্ছেন অনেকেই। এর মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ রায়হানুল হক, বাগমারা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ এনামুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাংসদ অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেগম আখতার জাহান, সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দীন মোল্লা এবং সাবেক সাংসদ কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারার নাম শোনা যাচ্ছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংসদ আয়েন উদ্দীন, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  ফকরুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলফোর রহমান ও সংরক্ষিত আসনের সাংসদ যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি আদিবা আনজুম মিতার নাম শোনা যাচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি এবং প্রতিমন্ত্রী করেছেন। যদি তিনি চান- তাহলে আবারো সংগঠনের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনকে গতিশীল করবো।’

সাবেক সাংসদ জেলা ছাত্রলীগ ও চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রায়হানুল হক বলেন, সংগঠনের চরম দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। ত্যাগ-তিতিক্ষা কতটুকু আমার রয়েছে তা কমবেশি সবারই জানা। এখন সুসময়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিলে নিষ্ঠার সাথে পালন করবো।

বাগমারা আসনের সাংসদ এনামুল হক বলেন, ‘সংগঠন করি। এখন সংগঠনের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী চাইলে সংগঠনের যেকোন দায়িত্ব নেব। তাছাড়া নয়।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘সম্মেলনে ভোট হলে সভাপতি প্রার্থী হবো। ভোট হলে বিশ্বাস করি কর্মীরা আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করবে।’

সাংসদ অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান বলেন, ‘সংগঠন ও প্রধানমন্ত্রী যদি চান তবে আমি যেকোন পদে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবো।’
জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক সাংসদ বেগম আখতার জাহান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছি। এবার সভাপতি প্রাথী হবার ইচ্ছে আমার আছে। আগেও আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী চাইলে এবারো সভাপতি হতে চাই।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম মিছিল করেছিলাম বাগমারায়। সংগঠনের যেকোন দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হলে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের দীর্ঘদিনের বিভেদ দুর করে গতিশীল করবো।

জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম গতবার।  পরে আমাকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়। সংগঠন এবং দলীয় সভাপতি চাইলে এবারো থাকবো। তিনি যদি না চান তাহলে শুধু একজন সদস্য হিসেবে দলের কাজ করবো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সাংসদ আয়েন উদ্দীন বলেন, একমাত্র ছাত্রনেতা হিসেবে এক এগারোতে আমি গ্রেফতার হয়েছিলাম। নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম শেখ হাসিনার মুক্তি চেয়ে। তার পুরস্কার হিসেবে নেত্রী আমাকে সংসদ সদস্য করেছেন। যদি নেত্রী আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেন, তবে দায়িত্ব পালন করবো। তিনি না চাইলে নয়।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হিরা বাচ্চু বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ত্যাগীদের নেতৃত্বে আনার জন্য খুজছেন। আমার উপর জেল, জুলুম, হামলা মামলা ছিলো সর্বোচ্চ। রাজনীতিতে আমার ত্যাগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে সভাপতি শেখ হাসিনা চাইলে আমি নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত আছি।

যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি সংরক্ষিত আসনে এমপি আদিবা আনজুম মিতা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে প্রতিষ্ঠা করতেই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছি। নেত্রী নিজেও নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দায়িত্ব পেলে জঙ্গী, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়তে কাজ করবো।