গর্ভকালীন সময়ের কিছু করণীয়

ডা: ফাবলিহা জান্নাত লোপা

নিউজ রাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১০:৪১ এএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সোমবার | আপডেট: ০৬:০৩ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০ সোমবার

ডা: ফাবলিহা জান্নাত লোপা

ডা: ফাবলিহা জান্নাত লোপা

গর্ভধারন প্রতিটি নাড়ীর জীবনে যেমন কাংখিত আনন্দের ঠিক তেমনি দায়িত্ব এবং কর্তব্য ঘেরা একটি সময়। গর্ভকালীন সময়ে একটি নাড়ীর মৃত্যু তার পরিবার, সমাজ ও সকলের জন্যই হুমকি স্বরুপ।

WHO এবং UN এর মতে প্রতিবছর প্রায় ১৭০ জন মেয়ে গর্ভবস্থায় মারা যায়। শুধুমাত্র গর্ভকালীন সময়ে অসাবধানতা, অপুষ্টি এবং ডেলিভারীর সময়ে অসতর্কতার কারনে। একটি অসতর্কতা সকলের আশা ভঙ্গের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন, সতর্কতা ও ভালোবাসা।

মূলত গর্ভধারণ এই প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ভ্রুণের জন্মের মধ্য দিয়ে। গর্ভকালীন এই সময়ে চিকিৎসাবিদ্যায় সাধারণত তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

১ম ধাপ:

প্রসাব বা রক্তের মাধ্যমে যদি বোঝা যায় আপনি সন্তান সম্ভাবা তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সন্তান সম্ভাবা নিশ্চিত হবার সময় থেকে প্রথম ৩ মাস হচ্ছে ১ম ধাপ। এসময় অনেকেরই খাবারে অরুচি, একটু বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। কিন্তু এতে ঘাবরাবার প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট খেতে হবে। এতে বাচ্চার মস্তিস্ক সু-গঠিত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে এসময় গর্ভকালীন কোনো ঝুঁকি আছে কিনা, থাকলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে। এই ১ম তিন মাস ভারী কাজ হতে বিরত থাকতে হবে এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে।

২য় ধাপ:

গর্ভবস্তায় ২য় তিন মাস হচ্ছে ২য় ধাপ। প্রথম দিকের লক্ষণগুলো এসময় অনেকটাই কমে আসে। আরামদায়ক ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করতে হবে। এসময় মা বাচ্চার তার বাচ্চার নাড়াচড়া বুঝতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন জাতীয় ক্যাপসুল, ক্যালশিয়াম ট্যাবলেটের পাশাপাশি পুষ্টি সম্পন্ন খাবার খেতে হবে।  এসময় সামান্য হাঁটা, ঘরের নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করা ভালো তবে সকল প্রকার ভারী কাজ হতে বিরত থাকতে হবে। নিয়মিত ওজন মাপুন।  

৩য় ধাপ:

গর্ভবতী মায়েদের জন্য এই ৩য় ধাপ (শেষ ৩ মাস) হলো সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ণ সময়। এসময় আপনার পেট দ্রুত বাড়তে থাকবে, দৃশ্যমান হবে গর্ভবতী। আগের তুলনায় ক্ষুধা অনেক বেড়ে যাবে। এমতাবস্তায় প্রয়োজনে সুষম খাবারের সঠিক চার্ট যেমন তালিকায় থাকতে হবে রুটি, আলু, ভাত, মাংস, দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার এবং বিভিন্ন শাক-সবজী, টমেটো, লেবু বাদাম ও শস্য জাতীয় খাবারের সাথে ক্যালশিয়াম ট্যাবলেট ও আয়রণ জাতীয় খেতে হবে। পাশাপাশি আপনাকে নিয়মিত চিকিৎসকের সরণাপন্ন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা মা ও বাচ্চার সু-স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। সময় হলে ডেলিভারীর পরিকল্পনা করতে হবে।

জেনে রাখা ভালো:

গর্ভকালীন সময়ে আমাদের কিছু কিছু বিষয়ে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিতে হবে।

যেমন:

  • যোনীপথে রক্তপাত
  • তীব্র মাথা ব্যাথা
  • অতিরিক্ত বমি বা বমি বমি ভাব
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • পা ফুলে যাওয়া
  • বাচ্চার নাড়াচড়া বন্ধ বা কমে যাওয়া

সর্বোপরী মা হওয়ার সময় একটি মেয়ের শারীরিক ও মানসিক উভয়েরই পরিবর্তন ঘটে। এসময় সকল কুসংস্কারকে পায়ে ঠেলে প্রয়োজন একটু বারতি যত্ন ও ভালোবাসা। কারন একজন সুস্থ মা-ই পারেন একজন সুস্থ বাচ্চা জন্মের মাধ্যমে গড়তে পারে সুস্থ সমাজ।

লেখক: ক্লিনিকাল কো-অর্ডিনেটর, সান হেল্থ‌ কেয়ার, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ঢাকা।