রাজশাহী-৫ আসন

চমক দেখাবেন কে- রেনী, পাইলট, মনসুর না তাজুল?

সায়েম সাগর

নিউজ রাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার | আপডেট: ১২:৫১ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার

আব্দুল ওয়াদুদ দারা, শাহীন আক্তার রেনী, খালেদ মাসুদ পাইলোট, ডাঃ মুনসুর রহমান, তাজুল ইসলাম ফারুক, আব্দুল মজিদ সরদার, ওবাইদুর রহমান।

আব্দুল ওয়াদুদ দারা, শাহীন আক্তার রেনী, খালেদ মাসুদ পাইলোট, ডাঃ মুনসুর রহমান, তাজুল ইসলাম ফারুক, আব্দুল মজিদ সরদার, ওবাইদুর রহমান।

রাজশাহী-০৫ আসন বাদে সবগুলোতেই থাকছেন আওয়ামী লীগের পুরনো প্রার্থীরা। কপাল পুড়ছে শুধু রাজশাহী-০৫ আসনের সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারার। তিনি মনোনয়ন দৌড় থেকে ছিটকে পড়ছেন বলে আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারার আসনে তবে চমক দেখাবেন কে? তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই আসনটিতে এখন মনোনয়ন পাবার পথে আছেন অনেকেই।

এর মধ্যে চমক দেখাতে পারেন, রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনপত্নী সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, বিএমএ নেতা ডা. মনসুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারুকসহ বেশ ক’জন নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসনটিতে ২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দীতায় আবারো সাংসদ নির্বাচিত হন। এসময় দুর্গাপুরে তাকে অবাঞ্ছিত করার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদকে শোকজও করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তাদের বিরুদ্ধে কেনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে লিখিত উত্তরও চাওয়া হয়। নেতা-কর্মীদের সন্তুষ্টু রাখতে ব্যর্থ হবার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদের কাছ থেকেও। তারা তিনজনই এঘটনার লিখিত জবাব দিয়েছেন।

সর্বশেষ এই আসনটি থেকে সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারাসহ ৯জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে গত রোববার জানান, রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই পুরনো প্রার্থীরা বহাল থাকছেন। শুধু সাংসদ আব্দুল ওয়াদুদ দারার আসনটিতে তাকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে না।

অন্য আট মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদের বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাকে শোকজও করেছে। ফলে তিনিও মনোনয়ন দৌড় থেকে ছিটকে পড়তে যাচ্ছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

এদিকে বর্তমান সাংসদের মনোনয়ন না পাবার খবরে তার বাইরে থাকা অন্য প্রার্থীদের পক্ষে পাল্লা যেমন ভারি হচ্ছে, তেমনি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুও বদল হচ্ছে প্রতিদিনই।

রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের দাদার বাড়ি পুঠিয়া উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামে। সেই সূত্রে এক সময় তিনি নিজেও এই আসনটিতে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। পরে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় তিনি আগ্রহ হারান। তবে তার স্ত্রী নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী গত সিটি নির্বাচনে লিটনের পক্ষে ভোট চাইতে ঘুরেছেন কয়েকহাজার ভোটারের বাড়িতে। এ থেকে বেড়েছে তার ইমেজ।

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় অনেক নেতাই তার কর্মকান্ডের প্রশংসা করেছেন। ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার জরিপেও রাজশাহী-০৫ আসনে শাহীন আকতার রেনীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া যায় মর্মে জরিপ রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। সেই জরিপ রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজশাহী-০৫ আসনের পুঠিয়া ও দুর্গাপুর দুটি উপজেলাতেই রয়েছে দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম দ্বন্দ্ব। বর্তমানে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের কাউকেই অন্য প্রার্থীরা মেনে নেবে না।

ফলে দ্বন্দ্ব সংঘাত কমিয়ে আনতে হলেও খায়রুজ্জামান লিটনপত্নী শাহীন আকতার রেনীকে এখানে দলীয় প্রার্থী করা যায়। সবাই তাকে ভালভাবে মেনে নেবেন এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এতে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করাও সহজ হবে।

যদিও শাহীন আকতার রেনী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, আমি কখনোই নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি ভাবছি না। তাই দলীয় মনোনয়নপত্রও তুলিনি। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংগঠনের প্রয়োজনে যদি আমাকে নির্বাচনে অংশ নেবার নির্দেশ দেন তবেই আমি ভোটের মাঠে নামবো।

হঠাৎ করেই এই আসনটিতে আলোচনায় আসছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের নাম। যদিও তিনি নির্বাচনের বিষয়টি এখনো ভাবনাতেই আনেননি বলে দাবি করেছেন।

খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, রাজশাহী-০৫ আসনের এলাকা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। সেখানকার মানুষ সম্পর্কেও আমি পুরোপুরি অবগত নই। ক্রিকেট নিয়ে এমনিতেই বেশ ভাল আছি। ভোট করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

হঠাৎ আলোচনায় এলেন কেনো? জানতে চাইলে পাইলট বলেন, আমার সঙ্গে একটি মাধ্যম যোগাযোগ করেছিলো। তারা আমাকে ভোট করার প্রস্তাবও দিয়েছিলো। আমি না করে দিয়েছি।’

অন্যদিকে বিএমএ নেতা ডা. মনসুর রহমানও আছেন বেশ ভাল অবস্থানে। তিনি এই আসনটিতে মনোনয়নপত্র তুলেছেন। এলাকায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে করছেন গণসংযোগ। ডা. মনসুরকে মনোনয়ন দেবার জন্য বিএমএ কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেও দাবি জানানো হয়েছে।

ডা. মনসুর বলেন, আমি মনোনয়ন পেলে আশা করি বিজয়ী হবো। একবার সুযোগ পেলে কখনোই জনবিচ্ছিন্ন হবো না।’

আলোচনায় আছেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুকও। তিনি এই আসন থেকে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হলে তার আসনে ব্যবসায়ী কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন।

অনেকেই বলছেন, আসনটিতে যারা দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন, তারা সবাই তারই অনুগত। তাকে প্রার্থী করা হলে সব দ্বন্দ্ব সংঘাত দুর হবে। তবে কেউ কেউ বলছেন, বয়স জনিত কারণে তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকছেন। তিনি মনোনয়ন পেলেও ভোটের মাঠে ঠিকমত দৌঁড়-ঝাপ করতে পারবেন না। অবশ্য তাজুল ইসলাম মোহাম্মদ ফারুক এটা শুধুই অপপ্রচার বলছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার দলের ভেতর থেকেই অপপ্রচার করা হচ্ছে যে আমি হাটতে পারিনা, চলতে পারিনা, অসুস্থ। অথচ আমি নিয়মিত হাটাচলা করে গণসংযোগ করছি। নৌকার ভোট চাচ্ছি। এলাকায় আমার অবস্থান খুবই ভাল। বাংলাদেশে আমার মত ভাল অবস্থা আর কোন আসনে কারোরই নেই। মনোনয়ন পেলে আমি বিজয়ী হবো আশা করি।’

বিএনপি-জামায়াতের নির্যাতিত নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুল মজিদ সরদার। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনিও মনোনয়ন পেতে বেশ দৌড়ঝাপ করছেন। আব্দুল মজিদ বলেন, বিএনপির প্রার্থী নাদিম মোস্তফাকে ঠেকাতে হলে আমাকেই মনোনয়ন দিতে হবে।

রাজশাহীর বানেশ্বরের ব্যবসায়ী ও জেলা যুবলীগ নেতা ওবায়দুর রহমান ভোটের মাঠে নেমেই বেশ কয়েকটি শোডাউন করেছেন তিনি। ওবায়দুর রহমান বলেন, মাঠ জরিপে মনোনয়ন দেয়া হলে আমিই মনোনয়ন পাবো। তৃণমূলে আমার অবস্থান বেশ ভাল।

এদিকে এবিষয়ে কথা বলতে বর্তমান সাংসদ কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারাকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে সাংসদ দারার একাধিক ঘনিষ্ট সূত্র বলছে, তিনি সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন তার মনোনয়ন ফিরিয়ে আনতে। এজন্য তিনি জোর চেষ্টা করছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিও মনোনয়ন নিয়ে চমক দেখাতে পারেন।