চাঁপাইয়ের সুন্দরপুরে গড়ে উঠেছে বক পাখির অভয়াশ্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:১০ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ শুক্রবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুরে বক পাখির অভয়াশ্রম গড়ে উঠেছে। ওই গ্রামের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সারি সারি বক। আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে ডানা মেলে উড়ছে সারি সারি বক। বিচিত্র কায়দায় নেমে আসছে কদম, শিমুল, বাঁশ আর পিঠালির গাছে গাছে। সেখানে এক বক অন্য বকের সাথে আনন্দে খেলায় মেতে উঠে। আর একটু শব্দ পেলেই ঝাঁকে ঝাঁকে আকাশে উড়ে যাওয়া এবং কয়েক চক্কর দিয়ে ক্ষনিকের বিশ্রাম নিতে আবার সেই কদম, পিঠালী, শিমুল ও বাঁশ গাছে আশ্রয় নিচ্ছে বকগুলো। 

ছোট ছোট শিশু বা বড়রা সকলেই মৃগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকে ওই উড়ে যাওয়া বকের সারির দিকে। নাওয়া খাওয়া ভুলে ঘন্টার পর ঘন্টা বকের সারির খেলা দেখা, সত্যিই চোখ জুড়িয়ে যায়। এমনই এক নয়নাভিরাম জায়গা পদ্মা নদীর পার্শ্ববর্তী সুন্দরপুর ইউনিয়নের মোল্লান গ্রাম। সারি সারি বক পাখির কলতানে মুগ্ধ হয়ে আর প্রকৃতি প্রেমীরা অবসর সময় কাটাতে ছুটে চলেছেন ওই গ্রামে। 

জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের মোল্লান গ্রামের ব্যবসায়ী ওহেদুল ইসলামের তত্বাবধানে সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান ও মোঃ হায়াত আলীর বাড়ির পাশে গড়ে উঠেছে বক পাখির এই অভয়ারণ্য। চরাঞ্চলের সবুজ প্রকৃতি আর বক পাখির নিবিড় বন্ধন দেখতে প্রতিদিন সেখানে ছুটে যাচ্ছেন হাজারো মানুষ। 

সরেজমিনে গেলে ব্যবসায়ী ওহেদুল ইসলাম জানান, ৮-৯ বছর আগে হঠাৎ করেই তাদের গ্রামে শামুকখোল প্রজাতির বক পাখির আনাগোনা বাড়তে থাকে।  গত ৫ বছর ধরে তার বাড়ির গাছে তারা বাসা বেঁধে বসবাস করছে। গ্রামের মানুষও তাদের আপন করে নিয়েছে। অনেক সময় শহর থেকে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি বন্দুক নিয়ে এসব বকপাখি শিকারের চেষ্টা করলেও গ্রামবাসীর প্রতিরোধে তারা হার মেনেছে।

তিনি আরও জানান, ৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বাখের আলী বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও বকপাখিগুলো রক্ষায় গ্রামবাসীকে সকল সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত বকের কলকাকলিতে মুখর থাকে মোল্লান গ্রাম আর প্রতিদিন অসংখ্য বকপ্রেমী মানুষ বকগুলো দেখতে এখানে আসেন। 

এদিকে জেলার বিশিষ্ট পাখি বিশারদ রবিউল হাসান ডলার জানান, শামুকখোল বক প্রজাতির পাখি যার ইংরেজি নাম ওপেন বিল বা এশিয়ান ওপেন বিল। এই পাখিটি ভারতীয় উপমহাদেশসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় দেখা যায়। খাবার ও আবাসস্থলের (মূলতঃ জলাভূমি) সংকটের কারণে এই পাখিগুলো ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মোল্লান গ্রামের মত দেশের বিভিন্ন স্থানে অভয়াশ্রম গড়ে উঠলে এই পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।