চান্স পেয়েও অর্থাভাবে ঢাবিতে ভর্তি হতে পারছে না মহিন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৪:৩৫ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

দিনমজুর আদিবাসী ঘরের ছেলে মহিন্দ্র চন্দ্র (উরাও)। অভাব-অনটন ও দারিদ্রতা তার মেধাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সে এবার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির সুযোগ পেয়েছে কিন্তু অর্থের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন এখন মহিন্দ্রের বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মহিন্দ্র জেলার পত্মীতলা উপজেলার হাসেনবেগপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এক হতদরিদ্র দিনমজুর আদিবাসী পরিবারের ছেলে। বাবা বাসুদেব উরাও ভ্যানগাড়ী চালায় আর মা বুলবুলি (বালা) উরাও মাঠে-ঘাঠে দিনমজুরের কাজ করেন। মহিন্দ্র বামইল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) ও চৌরাত শিবপুর বরেন্দ্র ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতে ২০১৯ সালে জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়েছে।

দুই ভাইয়ের মধ্যে মহিন্দ্র দ্বিতীয়। তার বড় ভাইও মেধাবী শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ালেখা করছেন। সম্প্রতি মহিন্দ্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করলেও ভর্তির পর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে মহিন্দ্র ও তার পরিবার। এ ছাড়াও আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করা নওগাঁর বেসরকারি এনজিও সংস্থা আরকো এবং নওগাঁর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ মহিন্দ্রকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।

মহিন্দ্রের বাবা বাসুদেব উরাও বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমাদের সাধ দিলেও দেয়নি সামর্থ। অভাবের কারণে আমি কখনোই আমার দুই ছেলের ছোট-খাটো ইচ্ছেগুলোও পূরণ করতে পারিনি। কোনো মতে বড় ছেলের পড়ালেখার খরচ যা না দিলেই নয় তা দেওয়ার চেষ্টা করি। কোনো মাসে তাও দিতে পারি না। আর আমাদের অসুখ-বিসুখ তো লেগেই আছে। মহিন্দ্রকে নিয়ে পড়েছি চরম দুশ্চিন্তায়। মহিন্দ্রর খুব সখ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবে। কিন্তু মহিন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও ঢাকার বুকে থেকে তার পড়ালেখার খরচ যোগান দেওয়ার মতো কোনো সামর্থ আমাদের নেই। তাই সমাজের বিত্তবানদের করুণার অপেক্ষায় রয়েছি। যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি আমার ছেলেকে একটু সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো সে তার স্বপ্নটা পূরণ করতে পারতো।

মহিন্দ্রকে যেকোনো প্রকারের সহযোগিতা করার জন্য সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাসুদেব। মহিন্দ্রকে সহযোগিতা করার জন্য ০১৭১২৬৩৩৭২১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেছেন তিনি।