চারঘাটে ফেনসিডিল-ইয়াবা না পেয়ে টাপেন্টা দিয়ে নেশা!

আবুল কালাম আজাদ সনি, চারঘাট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৪০ পিএম, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার | আপডেট: ০৫:৪৩ পিএম, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

পুলিশের কঠোর নজরদারি ও জোরদার অভিযানের মুখে মাদকদ্রব্য ফেনসিডিল ও ইয়াবার আকাল চলছে। দামও আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে টাপেন্টা নামের এক ধরনের ব্যথানাশক ও ঘুমের ট্যাবলেট নেশার জন্য ব্যবহার করছে মাদকসেবীরা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের ছেলেরা এ ট্যাবলেট দিয়ে নেশা করছে।

রাজশাহীর চারঘাটে এ ট্যাবলেট দুই বছর আগে মাদকসেবীরা ব্যবহার করতে গিয়ে প্রথম ধরা পড়ে। এরপর তা পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই প্রতিটি ফার্মেসিতে হাত বাড়ালেই মেলে এসব ট্যাবলেট। প্রশাসন ও ড্রাগ অফিস থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিন থেকে চারগুণ লাভ হওয়ায় ফার্মেসি মালিকরা কোনো বাধা মানছেন না।

জেলা ড্রাগ তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, আগে হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করত মাদকসেবীরা। এসব মাদক পাওয়া এখন বেশ কঠিন। তাই ঘুম ও ব্যথার ট্যাবলেটকে নেশার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বছর খানেক আগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে তা ব্যবহার করছে অনেকেই।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চারঘাট শাখার অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় লাইসেন্সধারী ফার্মেসি আছে ২০০ টা প্রায়। এ ছাড়াও অবৈধ অনেক ফার্মেসি রয়েছে। আর পৌর এলাকাতেই রয়েছে অনেক ফার্মেসি। হাসপাতাল ও কলেজ মোড়ে অনেক ওষুধের দোকানে মাদক হিসেবে এসব ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে। একটি ট্যাবলেটের সাধারণ মূল্য ১৫ থেকে ২০ টাকা হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যথা ও ঘুমের এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে মাদক তৈরি করা হচ্ছে। এসব মাদক সস্তা ও সহজেই মিলছে। কলেজ ও স্কুলের ছাত্ররা এসব মাদক সহজেই কিনে সেবন করছে। টাপেন্টা ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানির ঘুম ও ব্যথার ট্যাবলেট ও সিরাপ ব্যবহার হচ্ছে মাদক হিসেবে। এসব ট্যাবলেট ও সিরাপ মিশিয়ে `ঝাটকা, ফুটুস ও ভুলাদানা` নামে মাদক তৈরি হচ্ছে।

চারঘাট স্লুইস গেটের পূর্বে পাশে হঠাৎ পাড়া গ্রামে যাবার রাস্তায় সম্প্রতি কথা হয় এসএসসি শেষ করা দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তারা সেখানে দাঁড়িয়ে মাদক সেবন করছিল। কথা হলে দুই শিক্ষার্থী বলেন, ফেনসিডিল ও ইয়াবা পাওয়া এখন বেশ কঠিন, দামও বেশি। তাই নেশার জন্য ঘুম ও ব্যথার ট্যাবলেট ব্যবহার করছে তারা। বেশি দাম দিলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এসব ট্যাবলেট ফার্মেসি মালিকরা দেন। চারমাথা মোড়ের এক ফার্মেসি থেকে তারা ওষুধ ক্রয় করেছে বলে জানায়।

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি চারঘাট উপজেলা শাখার সভাপতি মাহাবুব আলম মোহন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর প্রত্যেক ফার্মেসি মালিককে চিঠি দিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধ বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমরা ফার্মেসি মালিকদের নিয়ে সভা করেছি।তাদের সতর্ক করা হয়েছে।ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান আছে।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, কোনো সুস্থ মানুষের জন্য এ ওষুধ ব্যবহার করা ঠিক নয়। যারা নিয়মিত ব্যবহার করে তারা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সবসময় দুর্বল ও ঝিমুনি লাগে। স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। এছাড়া হার্টসহ অন্যান্য অঙ্গের ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে।