চারঘাটে বড়াল নদীকে দখল মুক্ত করে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষনা

আবুল কালাম আজাদ সনি, চারঘাট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:২৫ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:২৬ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার

নদী কোনো ব্যক্তি মালিকের হয় না, নদীর মালিক জনসাধারণ। নদীর পানি ও মাছের ওপর কোনো ব্যক্তি, সংঘ, সংস্থা বা দলের একচ্ছত্র অধিকার নেই। কিন্তু রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া বড়াল নদীর একচ্ছত্র অধিকার কায়েম করেছিলেন নদীর আশেপাশের গ্রামের কয়েকজন অসাধু ব্যাক্তি। তারা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন এবং এমন আদেশ জারি করেছিলেন যে নদীর পানিতে কেউ নামতে পারবে না।

অর্থাৎ বড়াল নদীটিকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ধরে নিয়েছেন, প্রাকৃতিক স্রোত স্বিনীটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করে সেটির ক্ষতি সাধন করেছেন এবং গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের সেটির দান থেকে বঞ্চিত করেছেন। জানা যায়,বড়াল নদীর দুই পাড়ে জেলে সম্প্রদায়ের বাস। যুগ যুগ ধরে তারা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছে। গ্রামের মানুষ এই নদীতে গোসল করে, শিশু-কিশোরেরা সাঁতার কাটে, খেলাধুলা করে।

কিন্তু কয়েকজন প্রভাবশালী বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে নদীর মাঝ-বরাবর মাটি ফেলে এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে বাঁধ তৈরি করে মাছ চাষ শুরু করে সাধারন মানুষের নদীতে নামা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে নদীর পানি কমার সাথে সাথে প্রভাবশালীরা অবৈধ ভাবে নদী দখল করে মাছ চাষের প্রতিযোগিতা শুরু করে দেয়।এবারও তার ব্যাতিক্রম ঘটেনি। উপজেলার বড়ালের উৎপত্তি স্থল থেকে শুরু করে মিয়াপুর, অনুপামপুর, মুংলি, বনকিশোর ও পুঠিমারিতে প্রায় ৩০ টি বাধ নির্মান করে মাছ শুরু করেন তারা।

বিষয়টি নজরে আসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হকের। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত চারঘাট উপজেলাধীন বড়াল নদীতে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেন। প্রায় ৩০ টি অবৈধ বাধের সব কয়টি তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ভেঙ্গে দেন এবং উপজেলাবাসীর জন্য বড়াল নদীকে উন্মুক্ত জলাশয় হিসাবে ঘোষনা করেন।

এ সময় উপজেলা মৎস্য অফিসার আরিফুল ইসলাম ও চারঘাট মডেল থানার এস আই ইকবাল হোসেনসহ প্রশাসনের আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হকের এ কর্মকান্ডকে স্বাগত জানায় বড়ালের দুপাশের মানুষ। তারা তাৎক্ষণিক নদীতে মাছ শিকারে নেমে পড়েন।

তারা বলেন,বড়ালকে এবার নদী বলে মনে হচ্ছে। এতে আমাদের সবার অধিকার রয়েছে।নয়তো মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী জোর দখল করে নদীতে মাছ চাষ করে। গোসল করতেও নদীতে নামতে দেয়না।নদীকে তারা নিজেদের পৈত্রিক সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করে। নদীকে সব সময়ই এরকম বাধ মুক্ত রাখার দাবী জানিয়েছেন নদী পাড়ের মানুষ।

এ ব্যাপারে চারঘাট বড়াল নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, এই দখলমুক্ত কতদিন থাকতে দেবে প্রভাবশালীরা সেটা জানিনা, তবে এ দখলমুক্ত অভিযান প্রশংসা যোগ্য। দুই পাড়ের মানুষ দীর্ঘ দিন পর নদীতে মাছ ধরতে নামতে পেরেছে।বড়ালের যে এক সময় প্রাণ ছিল, সেটা আজ বিপন্ন হতে চলেছে দখল আর দূষণে। আর এই জোর দখল করে চলেছে মুষ্টিমেয় কয়েকজন মানুষ।তাদের কঠোর শাস্তির দাবী করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, নদীকে পুকুর বানানোর সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বড়াল উন্মুক্ত জলাশয়। এতে সবাই মাছ মারবে, গোসল করবে। কেউ যদি আবারও বাধ নির্মান করে মাছ চাষ শুরু করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

স/সা