চারঘাটে ভুয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

আবুল কালাম আজাদ সনি, চারঘাট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৫৯ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার | আপডেট: ০৭:০৬ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার

রাজশাহীর চারঘাটে এখন অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। এ উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি এবং এ ধরনের চিকিৎসকরা নিজেদের ডাক্তার পরিচয় প্রতারণা করছেন সরল গ্রামবাসীর সঙ্গে। গত মঙ্গলবার ফিরোজা বেগম নামের একজন গৃহবধু এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন। ভুয়া চিকিৎসকদের ওষুধে গ্রামের মানুষ প্রতারিত হলেও তারা থাকেন প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে।

উপজেলা সদর, সরদহ, নন্দনগাছী, ডাকরা, কাঁকড়ামারীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসকরা তাদের নামের আগে ডাক্তারের বিভিন্ন ‘ডিগ্রি’ লিখে চিকিৎসা বাণিজ্য করছেন, দিচ্ছেন ব্যবস্থাপত্র। তাদের দোসর হিসেবে আছেন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির কতিপয় প্রতিনিধি। ২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর সরকার ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল’ নামে একটি আইন অনুমোদন দিয়েছে। এ আইনে রয়েছে, এমবিবিএস ও বিডিএস পাস করা চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবেন না।

জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বরাবরই বঞ্চিত রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত কর্মস্থলে না আসায় এসব সুযোগ নিচ্ছেন ডাক্তারনামী একশ্রেণির প্রতারক। ভুয়া সার্টিফিকেট ও নানা ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সামগ্রী নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ক্লিনিক। আর ডাক্তারি কোনো সনদ ছাড়াই চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন ভুয়া চিকিৎসকরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার ফিরোজা বেগম নামের এক গৃহবধু তার ০৩ বছরের ছেলেকে নিয়ে চারঘাট বাজারের মমতাজ ফার্মেসি তে যান। ঐ ফার্মেসির মালিক সামসুর রহমান সামু নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। এরপর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুইটা ওষুধও তার দোকান থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু ওষুধের বোতল অনেক পুরনো এবং বোতলে কোনো সিল ব্যাচ নাম্বার না থাকায় ঐ গৃহবধূ ওষুধ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। সামসুর রহমান সামু অনেক বুঝিয়ে ওষুধ গুলো দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠায়।

আরো জানা যায়, এক দিন ওষুধ খাওয়ানোর পর তার ছেলে আরো বেশী অসুস্থ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওষুধ গুলো নিয়ে ফিরোজা বেগম আবারও সামসুর রহমানের কাছে যায় কিন্তু তিনি অপমান করে তার দোকান থেকে ঐ গৃহবধুকে বের করে দেয়।পরে ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মমতাজ ফার্মেসির মালিক সামসুর রহমান সামু বলেন, আমি নিজেকে কখনও ডাক্তার পরিচয় দিইনা। আর আমি ঐ মহিলাকে হোমিও ওষুধ দিয়েছিলাম,এজন্য কোনো সিল কিংবা মেয়াদ ছিল না।কখনও নিজে ওষুধ লিখেন না বলে জানান তিনি।

চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আশিকুর রহমান জানান, এমবিবিএস ও বিডিএস পাস ব্যতীত কেউ নামের আগে ডা. ডিগ্রি লিখতে পারবেন না।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ফার্মেসি দোকানদার ওষুধ লিখতে পারবে না। এটা একেবারে অবৈধ।

এবিষয়ে চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সামসুর রহমান উপজেলায় এসে মুচলেকা দিয়ে গেছেন, তিনি আর কখনও এরকম ওষুধ দিবে না। এছাড়াও উপজেলার কোনো ফার্মেসি ব্যবসায়ী যদি নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।