ছাত্রলীগ নেতা বনি’র মালিকানাধীন ছাত্রাবাসে ভাড়া মওকুফ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:৩৫ পিএম, ১ এপ্রিল ২০২০ বুধবার | আপডেট: ১১:৩৫ পিএম, ১ এপ্রিল ২০২০ বুধবার

অনিক মাহমুদ বনি।

অনিক মাহমুদ বনি।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে দেশের খেটে-খাওয়া মানুষ। দিনমজুররা যেমন বিপাকে পড়েছেন, তেমনি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও। যারা বাড়ির বাইরে ছাত্রাবাস বা ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশোনা করেন, তাদের ক্লাস না চললেও গুণতে হচ্ছে ভাড়ার টাকা।

তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে ‘শহীদ সাধু ছাত্রাবাসে’ থাকা ছাত্রদের এক মাসের ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন মেস মালিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বনি তার ফেসবুক স্টাটাসে এমন ঘোষণা দেন।

তিনি লেখেন, ‘আমরা যারা রাজশাহীর ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাসের মালিক, তারা অন্তত এক মাসের ভাড়া কী ছাড় দিতে পারি না? আমি অনিক মাহমুদ বনি, ‘শহীদ সাধু ছাত্রাবাস’র মালিক। আমি মেসের কোনো ছাত্রের থেকে এক মাসের ভাড়া নিবো না।’ তার দেওয়া ফেসবুক স্টাটাসে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী ওই স্ট্যাটাসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মন্তব্য করে তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষানগরী খ্যাত রাজশাহীর অন্য ছাত্রাবাস মালিকদেরও ভাড়া মওকুফ করার বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানতে চাইলে অনিক মাহমুদ বনি জানান, শহীদ শরিফুল ইসলাম সাধু তার আপন চাচা। মতিহার থানা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ১২ জানুয়ারি ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের কর্মীদের হামলায় নিহত হন ছাত্রলীগ নেতা সাধু। তার স্মরণে ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনি পারিবারিক সহায়তায় একটি ছাত্রাবাস গড়ে তুলেছেন। সেখানে বেশ কিছু ছাত্র বসবাস করেন। মাসে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ভাড়া পান বলে জানান তিনি।

অনিক মাহমুদ বনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা অনেকে বাড়িতে চলে গেছেন। আবার অনেকে ক্লাস-পরীক্ষা না থাকলেও বাধ্য হয়ে মেসে থাকছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা মূলত বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েই মেসের ভাড়া পরিশোধ করে থাকেন। কিন্তু দেশের এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ মানুষই এখন কর্মহীন। অনেকের বাবা হয়তো দিনমজুর। তারা কীভাবে এমন সময়ে ছেলের পড়াশোনা এবং মেস ভাড়ার খরচ বহন করবেন? বিষয়টি বিবেচনা করে আমি নিজে ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দিয়েছি এবং নগরীর অন্য মেস মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছি। আশা করি- তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’

এদিকে, শহীদ সাধু ছাত্রাবাসে ভাড়া মওকুফের ঘোষণা দেয়া হলেও ভিন্ন চিত্র নগরীর বিভিন্ন ছাত্রাবাসে। এপ্রিলের প্রথম দিনে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে ভাড়া আদায়ে জোর-জবরদস্তি করছেন অনেক মেসমালিক ও কেয়ারটেকার। যেসব শিক্ষার্থীরা মেস ছেড়ে ছুটিতে বাড়িতে গেছেন, তাদেরকে ফোন করে বিকাশে ভাড়া পরিশোধের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নগরীর বুধপাড়ার স্কলারস হোম নামে একটি ছাত্রাবাসে থাকা কয়েকজন ছাত্র জানান, তাদের কেয়ারটেকার মোবাইল করে ভাড়া পরিশোধ করতে বলেছেন। প্রয়োজনে বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এনিয়ে ক্ষুব্ধ তারা।

জানতে চাইলে ছাত্রাবাসের কেয়ারটেকার শাওন বলেন, ‘মালিক যেভাবে বলছে- আমি সেভাবে করছি। আমাকেই তো ভাড়া তুলতে হবে। তাই আগেভাগে সবাইকে ভাড়া দিতে বলেছি।’

স/এমএস