জয়পুরিয়ান ট্রাস্ট: করোনা মোকাবেলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০২:৩০ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৩১ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

"যতদিন করোনা, ততদিন আমরা" এই শ্লোগানকে সামনে রেখে করোনা মোকাবেলায় সামাজিক দায় বোধের অংশ হিসেবে সারাদেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজে অধ্যয়নরত জয়পুরহাটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংগঠন জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের অধীন গঠিত জয়পুরিয়ান ফান্ডের উদ্যোগে অসহায় মানুষদের সহায়তা সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে জেলার ৫ উপজেলার ১৫০০ পরিবারে সহায়তা সামগ্রী বিতরণের অংশ হিসেবে গত ৫ ও ৬ এপ্রিল জেলার ৪০ টি গ্রামের প্রতিটিতে ৫ জন হিসেবে ২০০ ব্যক্তি/পরিবারকে তারা নিজ হাতে নিজ নিজ গ্রামের অসহায়দের এই সহায়তা বিতরণ করেন।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও সরকারী নির্দেশনা মেনে তারা এই সামগ্রী বিতরণ করেন। এটি একটি চলমান কর্মসূচী।

সম্ভবত, বাংলাদেশে এই প্রথম কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যেখানে একজন শিক্ষার্থী সরাসরি তার নিজ গ্রামের অসহায়ের কাছে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করছে। ধারাবাহিকভাবে এটা চলতে থাকবে অন্যান্য গ্রামে প্রতিনিধি থাকা ও অর্থ যোগান থাকা সাপেক্ষে। তারা নিজ গ্রামের বাইরে যেতে পারবে না। কোন প্রকার ঝুঁকি না নিয়ে চাইলে যে সমাজের জন্য কাজ করা যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ এই মেধাবী জয়পুরিয়ানরা। কোন প্রকার ঝুঁকি গ্রহণ ব্যতিরেকে মহতী এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত হতে পেরে তারা নিজেরা মানসিকভাবে শান্তি পাচ্ছে এবং পরিবার, আত্মীয় স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে পাচ্ছে অকুন্ঠ সমর্থন।

এ প্রসংগে ট্রাস্টের চিফ কো-অর্ডিনেটর রানা মাসুদুর রহমান বলেন, "করোনা মোকাবেলায় দলবেঁধে সহায়তা সামগ্রী বিতরণের বিদ্যমান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে আমরা একটি নতুন পদ্ধতিতে সহায়তা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করছি। আমাদের পদ্ধতি অনুযায়ি, ট্রাস্ট কর্তৃক প্রদানকৃত নির্ধারিত অংকের টাকা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে প্রতিটি মেধাবীর মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এরপর শিক্ষার্থী টাকা উত্তোলন করে তার নিজ বা পরিবারের কারো সহায়তায় গ্রামের দোকান থেকে ট্রাস্ট কর্তৃক নির্ধারিত পণ্য কিনে তা প্যাকেটজাত করে প্রকৃত যোগ্য অসহায়দের কাছে বিতরণ করে। এতে করে দলবেঁধে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বাজার করে দলবেঁধে প্যাকেট করে তা নির্দিষ্ট একটি জায়গায় অনেক লোক জড়ো করে বিতরণ করতে হচ্ছে না। যে কারণে কোন ঝুঁকিও নিতে হচ্ছে না। আর এভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে কেউ সহায়তা সামগ্রী নিয়ে যেতে আগ্রহী হয় না, সেখানেও আমরা এ কার্যক্রম চালাচ্ছি।

কারণ, জেলার প্রায় সব গ্রাম/এলাকায় কোন না কোন শিক্ষার্থী বসবাস করে। আর এটাই আমাদের প্লাস পয়েন্ট। বিষয়টি তাদের কাছে আবেগের এবং মানবিকতার। শিক্ষার্থী নিজে তার হাত দিয়ে এ কাজটি সম্পন্ন করতে পারায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা যে টাকাটা পাঠায় তার সাথে সে নিজে বা পরিবারের পক্ষ থেকে আরো কিছু যোগ করে আরো বেটার কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত বিতরণকারী শিক্ষার্থী নিয়ে একটা গ্রুপ করে নির্দেশনা দেই এবং কে কি কিনলো তা ছবি তুলে গ্রুপে দিতে বলি। এতে সবাই সবার পণ্য দেখে এবং নিজেদের মধ্যে একটা সুস্থ মানবিক প্রতিযোগিতা চলে কে কার গ্রামে ভাল প্যাকেজ দিতে পারে। এই ভাল কিছু দিতে পেরে তারা নিজেরা শান্তি পায়। এভাবে প্রতিদিন নতুন শিক্ষার্থী নির্বাচন করে নতুন নতুন গ্রামে আমরা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

আশা করছি, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত প্রায় ৪০০ শতাধিক দুরন্ত মেধাবী জয়পুরিয়ানদের মাধ্যমে ১৫০০ পরিবারকে সহায়তা সামগ্রী প্রদানে প্রথম পর্যায়ের এ লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ্।"

রানা আরো বলেন,"আগামীর পথে আলোর সহযাত্রী হয়ে আমাদের জয়পুরিয়ানরাই গড়বে উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক জয়পুরহাট। যা বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের জয়পুরিয়ানদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।"

এ প্রসংগে ট্রাস্টের জয়েন্ট চিফ কো-অর্ডিনেটর এবিএম ইমরুল হাসান সৈকত বলেন, "আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। জয়পুরহাটকে এগিয়ে নিতে নিজেদের মাঝে পারস্পরিক বন্ধনের যোগসূত্র স্থাপনের বিকল্প নেই। আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক এই কাজের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধন আরো নিবিড় ও শক্তিশালী হবে।"

উল্লেখ্য, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়পুরহাটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত প্রায় প্রতিটি সংগঠন এই ট্রাস্টের কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে বিদেশে অবস্থানরত জয়পুরিয়ান ট্রাস্টের হিতৈষীবৃন্দ এ কার্যক্রমে ব্যাপক সহায়তা করছে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠানে সংগঠন নেই তারাও একটা সমন্বয় কমিটি গঠনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমকে বেগবান করতে কাজ করে যাচ্ছে।

বলা যায়, অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে জয়পুরিয়ান শিক্ষার্থীদের মানবিক এই সংগঠনটি বেশ ভালই সাড়া ফেলেছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে।

স/এমএস