তানোরে ছড়িয়ে পড়ছে লাম্পি স্কিন রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১২:১১ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার | আপডেট: ০৭:৩৫ পিএম, ৬ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গ্রামাঞ্চলের খামারগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার গরু। এর মধ্যে মারা গেছে একটি গরু। এ রোগের প্রতিষেধক ও সঠিক ওষুধ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরের ছড়িয়ে পড়ে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা এলাকায় ৮-১০টি খামারি রয়েছেন। এসব খামারে প্রায় ৭-১০ হাজার গরু আছে। এর মধ্যে প্রায় হাজারের অধিক বেশি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে খামারিরা বলছেন, আক্রান্ত গরুর সংখ্যা এর মধ্যে ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে গরুর খামারিদের সঙ্গে কথা হয়। পৌরসভার তালন্দ সমাসপুর এলাকায় কথা হয় খামারের মালিক শামসুলের সঙ্গে।

শামসুল আলম বলেন, গত ৪ নভেম্বর রোববার রাতে হঠাৎ তাঁর খামারের গরুগুলো বসা থেকে দাঁড়িয়ে খাওয়া বন্ধ করে দেয়। গরুগুলো কাঁপতে শুরু করে। তিনি আতঙ্কিত হয়ে খামারে ছুটে যান। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর ৪টি গরু আছে। এর মধ্যেও দুইটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত আছে বলে তিনি জানান। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন, মশা-মাছি ও পোকার মাধ্যমে ছড়ায় এ রোগ। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে দাঁড়ায়। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরে প্রচন্ড জ্বর আসে। পাশাপাশি গরুর শরীরের বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে গিয়ে মাংস খসে পড়ে। ফলে দুধ উৎপাদনও কমে যায়।

উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের খামারি সাইদ রানা জানান, গত কয়েক দিনে তাঁর খামারেও দুইটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি আক্রান্ত হওয়া গরুগুলো আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন। টাকা খরচ করেও সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় তিনি হতাশায় দিন পার করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আহসান হাবীব বলেন, ‘উপজেলার প্রায় এক থেকে দেড় হাজারের মত গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটি শুধু তানোরে নয়, সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এ রোগের টিকা আমাদের দেশে না থাকায় মাঠপর্যায়ে গিয়ে আমরা খামারিদের সচেতন করছি। আক্রান্ত গরুকে মশা-মাছি থেকে দূরে রাখতে হবে। রোগটি সারতে একটু সময় লাগবে। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ রোগটি দমনে কাজ করে যাচ্ছে।