তানোরে বক্সে ঢুকেও রক্ষা পেলো না ধর্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৯:০৮ পিএম, ৬ মে ২০২০ বুধবার | আপডেট: ০৯:০৮ পিএম, ৬ মে ২০২০ বুধবার

ঝড় ও বৃষ্টির সময়ে এক নারীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান আলী (২৭) নামের এক ব্যক্তি। ধর্ষণের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে বড় বক্সের ভেতর লুকান। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। বক্সের ভেতর থেকেই তাকে ধরে এনেছে পুলিশ। এ নিয়ে থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর তানোর উপজেলায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ি উপজেলার নড়িয়াল গ্রামে। তার বাবার নাম নূর নবী। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করেছেন হাসান। একবার তো এক নারী ধর্ষণের সময় তার গোপনাঙ্গে ব্লেড চালিয়েছিলেন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন তিনি।

তানোর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসান আলী দীর্ঘ দিন ধরেই গ্রামের এক নারীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ওই নারী এক সন্তানের মা। তার স্বামী ইটভাটার শ্রমিক। দুই মাস ধরে আছেন সিরাজগঞ্জে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে প্রচন্ড ঝড় ও বৃষ্টির সময় বাড়িতে একাই ছিলেন ওই গৃহবধূ। এ সুযোগে বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করেন হাসান। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে কেউ ওই নারীর চিৎকার শুনতে পাননি। ধর্ষণের পর হাসান পালিয়ে যান।

পরে ওই গৃহবধূ বিষয়টি গ্রামবাসীকে জানান। খবর পেয়ে পুরো গ্রামের লোক খুঁজতে থাকেন হাসানকে। পরে বিষয়টি জানানো হয় জরুরি হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে। পুলিশ আসে। এরপর হাসানের এক আত্মীয়ের বাড়ির একটি বক্সের ভেতর থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর ওই নারী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, প্রায় ৮ মাস আগে একই গ্রামের আরেক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছিলেন হাসান। তখন ওই গৃহবধূ হাসানের গোপনাঙ্গে ব্লেড চালিয়েছিলেন। চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন। তারও আগে গ্রামের আরও কয়েকজন গৃহবধূ তার লালশার শিকার হয়েছেন। কিন্তু সে সময়ে পুলিশ মামলা না নেয়ায় ঘটনাগুলো ধামাচাপা পড়েছে। হাসানের কারণে গ্রামের আরও দুই নারীর সংসার টেকেনি।

তবে এবার মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তানোরের মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর লুকিয়ে থাকা বাড়িটি গ্রামবাসী ঘিরে রেখেছিলেন। পরে সে বাড়ির একটি বক্সের ভেতর থেকে আটক করা হয়।

তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় গৃৃহবধূ থানায় ধর্ষণের মামলা করেছেন। এ মামলায় হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই গৃহবধূর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

স/এমএস