তানোর উপজেলায় সকালে জনসমাগম বিকেলে জনশূন্য

মিজানুর রহমান, তানোর

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:০৭ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২০ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সবধরনের দোকানপাট (কিছু ব্যতিক্রম ব্যতীত) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র সার, বীজ, কীটনাশক, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সামাজিত দূরত্ব বজায় রেখে খোলা রাখা যাবে।

বিকেল ৫টার পর ঔষধের দোকান ও ডাক্তারের চেম্বার ব্যতীত কোনো দোকান কোনো অবস্থাতেই খোলা রাখা যাবে না। -এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে গত ২৭ মার্চ করোনা ভাইরাস সংক্রমন ও সার্বিক প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত রাজশাহীর তানোর উপজেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও উপজেলার বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

প্রতিদিনই ভোর থেকেই বেলা ১০টা পর্যন্ত তানোর উপজেলার সকল হাট-বাজার এলাকায় সব ধরনের অধিকাংশ দোকানপাট বিভিন্ন কৌশলে খোলা থাকতে দেখা গেছে। তাছাড়াও বিকেল ৫টার পর থেকে ওষুধের দোকান ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট বন্ধ থাকতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর মনে হয় ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করছে।

শুক্রবার ও মঙ্গলবার সদরের গোল্লাপাড়া হাট, রোববার ও বুধবার তালন্দ হাট, সোমবার মুন্ডুমালা’র সাপ্তাহিক হাট। সপ্তাহের প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হাট বসছে। তাছাড়া প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাজার বসে। তবে খোলা মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এই সমস্ত হাট-বাজার বসলেও সরকারের নির্দেশনা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। ভোর রাত থেকেই সার, বীজ, কীটনাশক, কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ছাড়াও সবধরনের দোকানপাট খোলা হচ্ছে।

২২ এপ্রিল বুধবার বেলা ১০টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতোর নেতৃত্বে তানোর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাকিবুল হাসান ফোর্সসহ উপজেলার তালন্দ হাটে গিয়ে হ্যান্ডমাইকে করোনার ভয়াবহতায় সরকারের নির্দেশনা মানতে জনসাধারণকে অনুরোধ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন।

উপজেলা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও সার্বিক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, দেশের এই দূর্যোগময় মুহূর্তে সকলকে সরকারের নির্দেশ মেনে চলা উচিৎ। সম্প্রতি রাজশাহী জেলায় করোনা ভাইরাস আক্রমণকে কেন্দ্র করে জেলা জুড়েই লকডাউন ঘোষণার পরও এখনো মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রতিটি হাট-বাজারে গিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। এরপরও কেউ যদি সরকারের নির্দেশ অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/এমএস