‘তামাকমুক্ত রংপুর নগরীর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়ে তুলব’

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পিএম, ২ মার্চ ২০২০ সোমবার

‘তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়তে হলে আগে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ করতে হবে। আমরা যদি প্রত্যেক সপ্তাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারতাম তাহলে মানুষ আরও বেশি সচেতন হতো। তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়ার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তামাকমুক্ত রংপুর নগরীর মধ্য দিয়ে একটি স্বাস্থ্যসম্মত সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে পারবো।’

সোমবার (০২ মার্চ) সকালে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে ‘তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়তে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘আমরা তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়তে এসিডির সঙ্গে কাজ করতে চাই। রংপুরকে ক্লিন, গ্রিন তথা হেলদি সিটি গড়ার যে ভিশন বা মিশন নিয়ে কাজ করছি তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়া ব্যতিত সেটি কিন্তু বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য তামাকমুক্ত নগরী গড়তে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে করা হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়ে তোলার জন্য একজন অফিসারকে নির্দিষ্ট করে দায়িত্ব দিয়ে দেব। তার নেতৃত্বেই এই রংপুর নগরী হবে তামাকমুক্ত নগরী।’ এসময় এসিডির সঙ্গে তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়তে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করারও অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন মেয়র।    

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন মিঞার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা, ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স-সিটিএফকে’র গ্র্যান্ট্স ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া।

‘এসিডি’র মিডিয়া ম্যানেজার আমজাদ হোসেন শিমুলের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন- সংস্থাটির ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) শারমিন সুবরীনা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কর্মশালার উদ্দেশ্য বর্ণনা করেন ‘এসিডি’র তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোস্তফা কামাল।

এসময় ‘তামাকমুক্ত রংপুর নগরী গড়তে স্থানীয় সরকার এর ভূমিকা’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এসিডির এডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম শামীম। 

প্রেজেন্টেশনে ধূমপানের কারণে মানুষের শরীরে কী ধরনের সংক্রামক রোগ হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কোন কোন স্থানগুলোতে ধূমপান নিষিদ্ধ সে সম্পর্কে আলোচনা, একটি নগরীকে তামাকমুক্ত নগরী গড়তে হলে কী কী কার্যক্রম ও কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন এবং সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রে কী ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে সে সম্পর্কিত আলোচনা উপস্থাপন করা হয়। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘সিটিএফকে’র গ্র্যান্ট্স ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ‘রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে তামাকমুক্ত করতে কর্তৃপক্ষ যদি এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।’    

শুভেচ্ছা বক্তব্যে এসিডির ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) শারমিন সুবরীনা বলেন, ‘দেশকে উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত হিসেবে দেখতে চাইলে আগে তামাকের ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। আর পুরো দেশকে এক সঙ্গে তামাকমুক্ত করা সম্ভব নয়। এজন্য আগে বিভাগীয় কিংবা জেলা শহরকে তামাকুমক্ত করতে হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা রংপুর সিটিকে তামাকমুক্ত করার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, ২০২০ সালের মধ্যেই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে তামাকমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে এসিডির এডভোকেসিক অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম, প্রোগ্রাম অফিসার তৌফিকুল ইসলামসহ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স/এমএস