দুর্গাপুরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেলো দুইশত কৃষক পরিবার

দূর্গাপুর প্রতিনিধি

নিউজ রাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৪২ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার

রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় ভ্র্যামমান পরিচালনা করে ২শতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি স্থানীয় প্রভাবশালির হাত থেকে রক্ষা করলো উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি ) সমর কুমার পালের নেত্বীতে একটি ভ্র্যামমান পরিচালনা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের তরিপতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ভ্র্যামমানের নিবার্হী ম্যার্জিট্রেট ৬টি ভেকু মেশিন আটক করে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, গত এক মাস আগে ৪নং দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম জোর করে আমার ফসলি জমি দখল করে পুকুর খননের কাজ শুরু করে। আমি তাকে বলতে গেলে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন বিভিন্ন ভাবে আমাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এমন ভাবে এলাকার প্রায় দুইশতাধিক কৃষকের জমি সে দখল করে পুকুর খনন করে চলছে। কোন আইনের তোয়াক্কা না করে নিজের ক্ষমতায় সে একক ভাবে এসব কার করে চলছে।

স্থানীয় ভাবে চেয়ারম্যানের সাথে দুইবার বসার কথা বললে সে কৃষকদের কোন পাত্তা না দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। পরে স্থানীয় কৃষকসহ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করি। আজ (গতকাল মঙ্গলবার) আমরা প্রায় অসহায় দুইশতাধিক কৃষক রক্ষা পেলাম। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি যাদের সহায়তা দুইশত পরিবার রক্ষা পেলো তাদের যেন আল্লাহ হেফাজতে রাখেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সমর কুমার পাল বলেন, গত একমাস আগে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকের আবাদি জমি স্থানীয় প্রভাবশালিরা জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন করছে বলে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়। আমরা স্থানীয় ভাবে এমনকি আইনশৃঙ্খলা সভাতে এসব বিষয়ে চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনায় করেছি। কোন কিছুতেই পুকুর খনের কাজ বন্ধ করতে পারছি না।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলায় বেশ কয়েকজন কৃষক এসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এ জায়গাটুকু থাকছে না। সব জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন করছে চেয়ারম্যান রিয়াজুল ও ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান। পুকুর খনন বন্ধ না করতে পারলে ওই এলাকার প্রায় দুইশত পরিবারের বসতবাড়ি পড়বে পানির নিচে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকা জুড়ে চলছে পুকুর খনেনর মাহা উৎসব। তবে বন্ধ করা না গেলে সত্যেই যে বিপদে পড়বে অসহায় অনেক কৃষক। এসময় ওই এলাকার কয়েক হাজার সাধারন মানুষ উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমিকে সহযোগিতা করেন।

এদিকে, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি সরজমিনে গেলে এলাকার কয়েক হাজার সাধারন কৃষক চলে আসে জমিতে। সবাই নিজেদের জমি দেখিয়ে দেন যে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য জোর পূর্বক তাদেও জমি দখল কওে খনন করেছে।

পরে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সমর কুমার পাল আইনগত ব্যবস্থা নিতে চাইলে শুরু হয় নানান তদবির। বিভিন্ন দিক থেকে আসতে থাকে ফোন। তবে কোন তদবির না শুনে কৃষকের দিকে চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে চলে আসে তিনি। যার ফলে রক্ষা পেলো দুইশত পরিবারের বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি।