Advertisement

নাটোরে গৌরমতি আম চাষ করে সফল গোলাম মাওলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:০৪ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বুধবার

দেশের আড়াই শতাধিক জাতের আমের ভিড়ে নিজের অনন্য অবস্থানকে জানান দিচ্ছে সম্প্রতি উদ্ভাবিত গৌরমতি। আর মিষ্টতার মাত্রা ২৭ টিএসএস নিয়ে সবচেয়ে মিষ্টি আমের বৈশিষ্ট্য বহন করছে গৌরমতি। অন্যসব গাছের আম যখন শেষ, তখন চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হয়েছে গৌরমতির মৌসুম। নতুন উদ্ভাবিত এ আমের বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়েছেন নাটোরের আদর্শ ফল উৎপাদক গোলাম মওলা।

২০১২ সালে এ জাতের আম উদ্ভাবনের পরের বছরে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগরের খামারে মাত্র আটটি চারা দিয়ে গৌরমতির চাষ শুরু করেন গোলাম মওলা। প্রথমবার চার মণ ফলন পান। সেপ্টেম্বরে আমের অফ সিজন হওয়ায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন ৫০০ টাকা কেজি দরে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় গোলাম মওলা তৎপর হন পরিধি বাড়াতে। জেলায় মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিসরে গৌরমতির বাগান করেছেন তিনি। ২৪ বিঘার গৌরমতির বাগানে দুই হাজার গাছ আছে। এগুলোর মধ্যে চলতি মৌসুমে ১০০ গাছে আম ধরেছে। বর্তমানে চলছে বিপণন কার্যক্রম।

স্থানীয় বাজারের গণ্ডি পেরিয়ে গোলাম মওলার খামারের আম পৌঁছে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। স্মারক শুভেচ্ছা হিসেবে গেছে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দফতরে। অসময়ের আম হওয়ায় চাহিদার ব্যাপকতার কারণে বিপণন কার্যক্রমের জন্য কোথাও যেতে হয়নি তাকে। আগ্রহীরা বাগানে এসেই কৌতূহল ভরে আমের ফলন দেখছেন আর কিনছেন আম।

নাটোরের সফল ফলচাষি কলেজ শিক্ষক গোলাম মওলার জামনগরের খামার রকমারি ফলের গাছে সমৃদ্ধ, বলা চলে জার্মপ্লাজম সেন্টার। তবে বর্তমানে খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ গৌরমতি আমগাছ। এ গাছের পাতা ল্যাংড়া আমগাছের মতো। খামারকে সুশোভিত করে রেখেছে আমের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়া আমগাছগুলো। সুডৌল আমগুলোর সৌন্দর্য নজরকাড়া। একেকটির গড় ওজন ৭০০ গ্রাম।

গোলাম মওলা আমকে কীটনাশকমুক্ত এবং সম্পূর্ণ অরগানিক রাখতে শুধু ব্যাগিং নয়, নেট দিয়ে আমের গাছগুলোকে ঘিরেও রেখেছেন। ফল উৎপাদকদের জন্য এটি একটি দৃষ্টান্ত বলে কৃষিবিদরা মনে করেন।
বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মোমরেজ আলী বলেন, শুধু উপজেলায় নয়, নাটোর জেলায় গৌরমতির চাষে অনন্য অবদান রেখেছেন গোলাম মওলা। তার এ অবদান গৌরবের। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের জাতীয় পরামর্শক এসএম কামরুজ্জামান এবং প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ সম্প্রতি গোলাম মওলার গৌরমতির খামার পরিদর্শন করেন।

এসএস কামরুজ্জামান বলেন, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার থেকে তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে কিছু আম পাঠানো হয়। অজ্ঞাত জাতের এ আম খেয়ে মুগ্ধতার কথা কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাধ্যমে জানতে পারে উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক।

প্রকল্পের নির্দেশনায় সংগৃহীত আমের গাছ শনাক্ত করা হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ এলাকার শিয়ালমারায়। আটটি আম, শুরু হলো প্রকল্পের পক্ষ থেকে এ গাছের চারা উৎপাদন কার্যক্রম। পরের বছর মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ওই গাছের সব আম কিনে নেওয়া হলো আর আমধরা গাছের নিচে দেশের ৬০টি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদদের নিয়ে বসল বৈঠক।

বৈঠক শেষে এ গাছের আমের চারা তৈরির জন্যে সবার হাতে তুলে দেওয়া হলো গাছের সায়ন (কলম করার উপযোগী গাছের কচি ডগা)। এর পর থেকে সব হর্টিকালচার সেন্টারে তৈরি হতে শুরু করে এ গাছের চারা। এখন এসব চারা ফল দিতে শুরু করেছে।