নীলফামারীতে দুই জর্দ্দা কোম্পানিকে জেল-জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১০:৩৬ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

নীলফামারীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই জর্দ্দা কোম্পানির মালিকের প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। তিন দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা আদালতে জমা দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে ১ মাস ১০ দিনের কারাদন্ডেরও আদেশ দেন আদালত। 

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নীলফামারীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ ও ২ এবং আমলি আদালত-১ (সদর) এর বিচারক মো. জাহিদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- নীলফামারী সদরের সুখধন গ্রামের মৃত লাল মাহমুদের ছেলে ময়নুল ইসলাম ও দারোয়ানী টেক্সটাইল গ্রামের মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান। 

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (সংশোধিত আইন-২০১৩) এর ১০ (১) ও (৩) ধারা লঙ্ঘন করে ‘ময়নুল ক্যামিকো কোং’ জর্দ্দা ফ্যাক্টরির মালিক ময়নুল ইসলাম তুহিন সুপার হাকিমপুরী জর্দ্দা, সিটি রেডলিফ লালপাতি জর্দ্দা, তুহিন নাঈমপাতি জর্দ্দা ও তুহিন হেনাপাতি নামে এই চার প্রকারের জর্দ্দা উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করছিলো।

একইভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করে ‘মোজাহারুল ক্যামিক্যাল কোং’ জর্দ্দা কোম্পানির মালিক মিজানুর রহমান সিয়াম শোভা জর্দ্দা, সুপার হাকীমপুরী কানপুরী জর্দ্দা, সিটি রেডলিফ লালপাতি নামে এই তিন প্রকারের জর্দ্দা  উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করে আসছিলেন। 

এই বিষয়টি নজরে আসায় গত বছরের ১০ জুলাই নীলফামারী সদর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আল আমিন রহমান বাদি হয়ে দুই জর্দ্দা কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে নীলফামারী চিফ জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। গত রবিবার মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ সোমবার আদালত মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য্য করেন। বাদির পক্ষে মামলা দুটি পরিচালনা করেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল ইসলাম প্রামাণিক।

আর মামলা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করে উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি।’  

বাদিপক্ষের আইনজীবী আজিজুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, ‘দীর্ঘ আইনি লড়াই করার পর এই মামলার রায় হয়েছে। এর আগে আদালত বেশ কয়েকবার শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু আসামিরা আদালতে হাজির হয়নি। পরে তাদের বিরুদ্ধে আদালত সমন জারি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত রবিবার সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ (আজ সোমবার) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। সেই অনুযায়ী, সোমবার মামলা দুটির রায় ঘোষণা করলেন আদালত। 

উল্লেখ্য, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (সংশোধিত আইন-২০১৩) এর ১০ (১) ধারায় বলা হয়েছে। ‘তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পার্শ্বে মূল প্রদর্শন তল বা যে সকল প্যাকেটে দুইটি প্রধান পার্শ্বদেশ নাই সেই সকল প্যাকেটের মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অন্যূন শতকরা পঞ্চাশ ভাগ পরিমাণ স্থান জুড়িয়া তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে রঙ্গিন ছবি ও লেখা সম্বলিত স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাংলায় মুদ্রিত করিতে হইবে।’

আইনের ১০ (৩) ধারায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশে বিক্রিত তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্যাকেট, মোড়ক ও কৌটায় ‘শুধমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত’ মর্মে একটি বিবৃতি মুদ্রিত না থাকিলে বাংলাদেশে কোন কোন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করা যাইবে না।” আইনের এই দুটি ধারা লঙ্ঘন করায় এই দুই জর্দ্দা কোম্পানির মালিককে এই দন্ডাদেশ দেয়া হয়।

স/এমএস