প্রশাসনের অভিযানে রাজশাহীর বাজারে দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:১৯ পিএম, ২১ মার্চ ২০২০ শনিবার

করোনা আতঙ্কে কয়েকদিন ধরে এক শ্রেনীর ক্রেতা-বিক্রেতার কারনে রাজশাহীর বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি পায়। যা নিয়ন্ত্রনে প্রশাসন একাধিক অভিযান পরিচালনা করেন। যার ফলশ্রুতিতে বাজারে স্থিতিশিলতা ফিরতে শুরু করেছে। গতকালের ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আজ খুচরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার সকালে সরেজমিন নগরীর সাহেব বাজারের সবজি বাজার, পেঁয়াজের আরত, চালের পাইকারি বাজার, খুচরা বাজার এবং একাধিক ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুইদিনের চেয়ে আজ (শনিবার) দ্রব্য মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারের কোথাও মূল্য বৃদ্ধির তেমন কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ক্রেতা নগরীর রাণী বাজারের মৌসুমি ও তার মা জানান, প্রতিবেশিদের মুখে যেমন শুনেছি, সব কিছুর দাম অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু বাজারে এসে তেমনটা বুজলাম না। নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের মূল্য স্বাভাবিকই আছে।

বাজার করতে আসা আরেক ক্রেতা নগরীর রেলগেট এলাকার উত্তম কুমার বলেন, কোন পন্যের দামই তেমন বাড়েনি। পেঁয়াজের দাম গতকালের চেয়ে কম। বাজারে কোথাও কোন পন্যের সংকট পাইনি। আমরা সাধারণ মানুষরাই আতঙ্কে দ্রব্যমূল্যের চাহিদা বাড়িয়েছি।

পেঁয়াজের মূল্য বেশি রাখার কারণে গতকাল শুক্রবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছেন, পেঁয়াজ-রসুনের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম মুরতজা বলেন, প্রশাসনের অভিযানের ফলে আমরা সচেতন হয়েছি। আজ আমরা দেশি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছি। মেহেরপুরের লাল পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। জ্যোতি ট্রেডার্’স এর কর্ণধার আরো বলেন, দেশি রসুন আমরা পাইকারি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করছি।

আলহাজ আমজাদ স্টোরের সাথে কথা বললে তারা বলেন, গতকাল ক্রেতার চাহিদা খুব বেশি ছিল। আজ সেতুলনায় অনেক কম। আগামি দুই একদিনের মধ্যে ক্রেতার চাহিদা আরো কমে যাবে।

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।

সকালে নগরীর সাহেববাজারে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় খুচরা চাল বিক্রেতারা অভিযোগ করেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে প্রভাব পড়ছে।

এমন অভিযোগ পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম কুমারপাড়া এলাকায় পাইকারী চালের বাজারে অভিযান চালান। পরে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোর অভিযোগে শাহমখদুম রাইস এজেন্সীকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়াও ওই এলাকার বিভিন্ন আড়ত ও খুচরা বাজারে গিয়ে করোনা ভাইরাস আতঙ্ককে পুঁজি করে যেন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর দাম না বাড়ানো হয় সে ব্যপারেও সতর্ক করে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অন্যদিকে অতিরিক্ত জনসমাগম রোধে রাজশাহী মহানগরীর পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান চালানো হবে বলেও জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এরইমধ্যে রাজশাহীর বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। এই নির্দেশনা না মানলে সংক্রামক ব্যাধি আইনে জরিমানা করা হবে বলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকালে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে কেউ যেন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে পারে। মজুত থাকার পরও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম না বাড়াতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসন আজ থেকে মাঠে থাকবে। নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে তাদের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

স/র