প্রাথমিকে স্কুলজীবন শেষ হওয়া হোসনে আরা আজ সফল উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:১০ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

অভাবের সংসারে প্রাথমিকেই শেষ হয় ‍শিক্ষাজীবনের যাত্রা। মেয়ে হওয়ায় চলে যেতে হয় স্বামীর সংসারে। তারপরও থেমে যাননি নাটোরের হোসনে আরা বেগম। মাত্র ১০ টি মুরগী নিয়ে শুরু হয় সাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম। এখন তার হ্যাচারিতে উৎপাদিত হয় ১৫ লাখ ‍মুরগির বাচ্চা।

নাটোরের উত্তর চৌকিরপাড় এলাকার হোসনেয়ারা বেগম। অভাবের তাড়নায় প্রাথমিকের গণ্ডি পেড়ুতেই বন্ধ হয়ে যায় লেখাপড়া। কৈশোরেই বাবার সংসার ছেড়ে যেতে হয় স্বামীর সংসারে। তবও পিছু ছাড়েনি অভাব। শুরু হয় বেঁচে থাকার নতুন সংগ্রাম। শুরু করেন মুরগি পালন।

শুরুতে সম্বল ছিলো মাত্র ১০টি মুরগি। পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে তা। এখন তার রয়েছে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি। নাম জিশান পোল্ট্রি হ্যাচারি। প্রতি বছরে এই হ্যাচারি থেকে উৎপাদন হয় ১৫ লাখ  মুরগীর বাচ্চা। যা থেকে হোসনেয়ারার লাভ কয়েক লাখ টাকা।

শুধু নিজের নয় হোসনেয়ারার হ্যচারিতে কাজ করে ভাগ্য বদলেছে অনেকের। কর্মসংস্থান হয়েছে ২০ থেকে ২৫ জন নারী-পুরুষের। এছাড়াও তার অধীনে রয়েছে কয়েকশো নারী খামারী। ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করতে ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পেয়েছেন হোসনেয়ারা।

নাটোরের জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা বলেন, হোসনেয়ারার এমন উদ্যোগে অনেকেই অনুপ্রানিত হচ্ছেন। হোসনেয়ারার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন বলে জানান নাটোরের জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।  

স্থানীয়রা বলছেন, বেকারমুক্ত সফল বাংলাদেশ গড়তে হোসনেয়ারা বেগমের উদ্যোগ অনুকরণীয়।