ফারুক চৌধুরীর হটলাইনে মেসেজ করলেই রাতে বাড়িতে পৌছে যাচ্ছে খাবার

মিজানুর রহমান, তানোর

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৪:৪০ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২০ সোমবার | আপডেট: ১১:২৭ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২০ সোমবার

কর্মহীন মানুষগুলোকে খাদ্য উপহার দিতে রাজশাহী-০১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী হটলাইন সার্ভিস চালু করেছেন। যারা লোকলজ্জার ভয়ে ত্রাণ চাইতে পারেন না বা প্রকাশ্যে নিতেও পারেন না, তাদের জন্য তিনি এই সার্ভিস চালু করেছেন।

খাবার চেয়ে নির্ধারিত নম্বরে মেসেজ করলেই সেই বাড়ীতে খাবার পৌছে যাচ্ছে। গত ৬ এপ্রিল ওমর ফারুক চৌধুরী নিজের ফেসবুকে এই হটলাইন সেবার ঘোষণা দেন। এরপর গত দুই সপ্তাহে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার প্রায় ২৫হাজার পরিবারকে এই সেবা দিয়েছেন তিনি।

রাতের বেলা সকলের অগোচরেই এই খাবার সরবরাহ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। গত ৬ এপ্রিল ফারুক চৌধুরী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘‘আপনারা কেউ যদি খাদ্যের অভাবে থাকেন তবে ০১৭১১৮১৯২৪৭ (এমপি ফারুক চৌধুরী), ০১৭১১০৬৮৪৫০ (জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান, গোদাগাড়ী) ০১৭১৬৩৮৯৯৬০, ( লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না, উপজেলা চেয়ারম্যান, তানোর) নম্বরে দ্বিধাহীন ভাবে এসএমএস করে নাম ও ঠিকানা জানান।

দ্রæততম সময়ের মধ্যে আপনার বাড়ীতে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিবো ইনশাআল্লাহ।’’ এছাড়া সংসদীয় আসনের চারটি পৌরসভা ও ১৬ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের ফোন নম্বরও দেয়া হয়েছে। এই নম্বরগুলোতে ফোন করলেই খাবার পৌছে দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরী জানান, কিছু দরিদ্র মানুষ আছেন, যারা নিজে এসে ত্রাণ চেয়ে নিতে পারেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত কিছু মানুষ আছেন, যারা চক্ষুলজ্জা করে চাইতেও পারেন না, আবার প্রকাশ্যে ত্রাণ নিতে আসতেও পারেন না।

এসব পরিবারগুলোর কথা চিন্তা করেই এই হটলাইন সেবা চালু করেছি। তিনি বলেন, আমরা খুব বেশি পরিমাণে খাবার দিচ্ছি তা নয়। ৫ কেজি চাল, আধা কেজি ডাল, এক কেজি আলু, আধা কেজি লবন, আধা লিটার তেল, হাত ধোয়ার সাবান ও মাস্ক দিচ্ছি। গত দুই সপ্তাহে এসব এলাকায় অন্তত ৩০ হাজার মানুষকে খাদ্য উপহার দেয়া হয়েছে। এসব উপহার আমার নিজের তহবিলের। সরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আলাদা ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের দেয়া হটলাইন নম্বরে কাউকে ফোন করার দরকার হয়না। মেসেজ দিলেই স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে এমপি সাহেবের পক্ষ থেকে খাবার পৌছে দেয়া হচ্ছে।’ তানোর উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না বলেন, সরকারি বরাদ্দ সরকারিভাবেই ইউএনওর মাধ্যমে বরাদ্দ হচ্ছে। হটলাইনে যারা ফোন করছেন, তাদের এমপি ফারুক চৌধুরীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে রাতের অন্ধকারে খাবার পৌছে দিচ্ছে।

প্রতিতটি ইউনিয়নেই আমাদের স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই খাবার পৌছাচ্ছি। করোনার দুর্যোগ যতদিন চলবে, ততদিন এই খাদ্য উপহার বিতরণ চলবে।

স/র