ফেসবুকে মানুষের প্রশ্নের জবাব দিয়ে প্রশংসিত প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫১ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দিয়ে বরাবরই প্রশংসিত হন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এমপি। সেই ধারাবাহিকতায় ‘বিমান বাংলাদেশ’ নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া পোস্টের কমেন্টে এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর করা প্রশ্নের সব উত্তর মেইলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের প্রশংসিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এটিকে সামাজিক মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বলে মনে করছেন।

জানা যায়, গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার নিজের ফেসবুক ওয়ালে কয়েকটি ছবি দিয়ে লেখেন, ‘একটু পক্ষপাতিত্ব করে বলতেই পারি, `বিমান` পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এয়ারলাইন্স!’ পোস্ট দেওয়ার পর অনেকে তার নিচে বিভিন্ন কমেন্টস করতে থাকেন।

এর মধ্যে সাইফ আল সোহাদ নামে এক ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা ভারতের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি বিষয়ে উত্তর চাই।’ জবাবে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘আপনার প্রশ্ন আমাকে ই-মেইলে ([email protected]) জানান। আমি অফিসে ফেরার পর স্বাচ্ছন্দে উত্তর দেবো। যখন আপনি আমার উত্তর পাবেন, তা প্রশ্নসহ আপনার ফেসবুকে পাবলিশ করবেন।’ প্রতিমন্ত্রীর এই কমেন্টে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ লাইক দেন।

প্রতিমন্ত্রীর কমেন্টের প্রশংসা করে তার নিচে খায়রুল হোসেন তালুকদার নামে একজন লেখেন, ‘স্যার, আমরা খুবই অনুপ্রাণিত। আপনি এমন একজন মানুষ, যিনি মানুষকে ভদ্রতার সাথে শক্তভাবে বোঝাতে পারেন। আপনার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার রয়েছে। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন।’

এদিকে, ওই পোস্টের নিচে প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার একজন বাসিন্দা কমেন্ট করেছেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিদ্যুৎ চাই’ এমন কমেন্টের প্রতিউত্তরে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘টেন্ডার হয়ে গেছে। সোলার ছাড়া পোলের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।’

নদীর পানি চুক্তি, জলসীমায় রাডার বসানোসহ কয়েকটি বিষয়ে জানতে চেয়ে করা একাধিক কমেন্টের নিচে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘প্রশ্নের  এই তালিকার বেশির ভাগই অসত্য ও অপপ্রচার। মাত্র ১.৮২ কিউসেক পানি ত্রিপুরার জনগনের জন্য খাবার পানি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।’ এমন অসংখ্য কমেন্টে করা রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উপযুক্ত উত্তর দিয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে উদাহরণ হয়ে উঠছেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে দেশের মানুষের এমন জবাবদিহিতায় সঠিকভাবে উত্তর দেওয়াকে গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ বলছেন দেশের মানুষ। সচেতন মহল বলছেন- দেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং তা ডিজিটালাইজেশনের যুগে সামাজিক মাধ্যমেও প্রভাবিত করছে। সেখানে মানুষ দেশের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহিতা চেয়ে সাবলিলভাবে মন্তব্য করছেন এবং যার উদ্দেশ্যে মন্তব্য তিনি তার যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্তর দিচ্ছেন, এটাও এক ধরনের কমিউনিকেশন। যা ফলপ্রসূ হলে গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রকাশে সামাজিক মাধ্যমও ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ভূ-তত্ব ও খনিবিদ্য বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপুও প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের ওই পোস্টের নিচে কমেন্টস করেছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর কমেন্টের উত্তর দিতেও দেখেছেন। সেগুলো মনোযোগ সহকারে পড়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী একজন শিক্ষিত, মার্জিত ও ইতিবাচক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে সব সময় ভাবেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত। সেখানে মানুষের বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব দেন ভদ্রভাবেই। আমি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজ দুটোতেই সংযুক্ত আছি। তিনি সামাজিক মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে খুবই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, বিরক্ত হন। এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।’

রাবির পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক এফএম আলী হায়দারও প্রতিমন্ত্রীর সাথে সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক অবস্থা বিরাজমান। মানুষ স্বাধীনভাবে তার মত প্রকাশ করছেন। সামাজিক মাধ্যমে তারা পছন্দের নেতাদের প্রশংসা ও অপছন্দের নেতাদের সমালোচনা করছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে তাদের প্রশ্ন তুলে ধরছেন। সেগুলোর সরাসরি উত্তর পাচ্ছেন। যেটা আগে সুযোগ ছিল না। আমি মনে করি- এটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।