বাঘায় মুলাসহ শীতের আগাম সবজির ব্যাপক চাষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:০৩ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯ রবিবার

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় আগাম শীতের সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। এরইমধ্যে সবজি বাজারে ব্যাপক আকারে আসতেও শুরু করেছে। তবে আগাম শাকসবজি বাজারে তুলতে পারলে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব, এমন চিন্তা মাথায় রেখে চারা তৈরি ও সবজি চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়ে চাষিরা।

শরতের শেষ দিকে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। দিনের বেলা গরম পড়লেও রাতে শীত পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়ার এমন পালাবদলে চাষাবাদের ধরনও পাল্টেছে।

উপজেলার আড়ানী ও বাঘা পৌর এলাকাসহ বাউসা, বাজুবাঘা, গড়গড়ি, মনিগ্রাম, পাকুড়িয়া, আড়ানী, চকরাজাপুর ইউনিয়নের কিছু অংশে বড় পরিসরে শাকসবজির চাষ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে চাষিরা সবজি চাষ করে লাভবান হওয়ায় শীতের সবজি চাষে ঝুঁকেছেন।

শীতের সবজি বিক্রি করে বেশি টাকা আয়ের উদ্দেশে এখন চাষিরা জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চারা বপন ও পরিচর্চার কাজ করে যাচ্ছেন। যেসব শাকসবজি চাষ হয় সেগুলো হলো আগাম আলু, মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, ঢেঁড়স, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজ।

উপজেলার খুচরা বাজারে নতুন সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শিম ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ফুলকপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পালংশাক ৩০ থেকে ৩৫ টাক, মুলা ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার পাইকারি বাজার বাঘা, আড়ানী, চকরাজাপুরসহ বিভিন্ন বাজারের সবজি পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

বাঘা উপজেলার মীরগঞ্জ ভানুকর গ্রামের সবজি চাষি আবদুস সালাম বলেন, শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। সে কারণে শীতকালীন শাকসবজি চাষাবাদ করছি। ২ বিঘা জমিতে মুলা চাষ করেছি। ভালো হয়েছে। আশা করছি ৪৫ হাজার টাকার মুলা বিক্রি করবো। গত বছর শীতকালীন সবজি বিক্রি করে ভালো লাভ হয়েছিল।

বাঘা পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর চরের শিকদার বলেন, আড়াই বিঘা জমিতে কপি আছে। ভালো হয়েছে। আশা করছি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারোব।

এছাড়া পলাশি ফতেপুর চরের আকসেদ আলী বলেন, দেড় বিঘা আগাম করলা চাষ করেছিলাম। বন্যায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর আবারও লাগিয়েছি। কিছু গাছে করলা ধরছে, কিছু কিছু বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো পাচ্ছি।

আড়ানী হাটের পাইকারি ক্রেতা বাদশা বলেন, এখান থেকে এসব শাকসবজি কিনে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বাজারগুলোতে পাইকারি বিক্রি করি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, উপজেলায় প্রায় সারা বছরই সবজি চাষ হয়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয় পদ্মার চরাঞ্চল, আড়ানী, বাউসা এলাকায়। উপজেলার বারো মাসই কৃষকরা বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করে। কৃষকরা নার্সারি করে সবজি চাষ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে আগাম জাতের সবজি চাষ হয়েছে-শিম, পালংশাক, করলা। হাটবাজারে পালংশাক বিক্রি শুরু হয়েছে। ভালো ফলন পেতে সবজি চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।