বাঘিয়াপাড়ের হিজলতলায় জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:০২ এএম, ১৭ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার

লাল-সবুজের এই দেশজুড়ে ছড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নানা স্মৃতি, যা দেখে তার জীবনযাত্রা অনুভব করেন দর্শনার্থীরা। এমনই এক স্মৃতি বহন করে চলেছে টুঙ্গিপাড়ার বাঘিয়া পাড়ের হিজল গাছ আর হিজলতলা।

বঙ্গবন্ধু বাড়ির পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত হয়েছে ছোট একটি খাল। খালটির নাম বাঘিয়া। এ খালের পাশেই হিজলতলা। এখানের বাঁধানো ঘাটে বঙ্গবন্ধু গোসল করতেন, খালে সাঁতার কাটতেন, হিজলতলায় অবসর সময় কাটাতেন। বিভিন্ন কাজের জন্য এখান থেকেই বঙ্গবন্ধু নৌকায় বের হতেন। হিজল গাছটি আজও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির সাক্ষী হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ধরে রাখতে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির পার্শ্ববর্তী খালের পাড় ও হিজল গাছের চারপাশ বাঁধাই করা হয়েছে। টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রতিদিনই জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত হিজলতলাসহ খালটি পরিদর্শনে আসেন শত শত বঙ্গবন্ধুপ্রেমী। সারাদিন বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থীরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে এসে অনুভব করেন বঙ্গবন্ধুর স্পর্শ। দলবেঁধে ছবি তোলেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেটি ছড়িয়ে দেন।

তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, কিন্তু টুঙ্গিপাড়ায় তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। তাই এখানে এসে বঙ্গবন্ধুর আদি পৈতৃক বাড়ি, ছেলেবেলার খেলার মাঠ, তার প্রিয় বালিশা আমগাছ, হিজলতলাসহ বিভিন্ন স্মৃতি ঘুরে ঘুরে দেখেন তারা।

টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বন্ধু সৈয়দ নূরুল হুদা মানিকের ছেলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির পাশেই বয়ে যাওয়া বাঘিয়ার ছোট খাল এবং ঘাটের হিজল গাছ অনেক স্মৃতি বহন করে চলেছে। এই হিজল গাছের নিচে খালের ঘাটে বঙ্গবন্ধু গোসল করতেন। সেই হিজল গাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি আরো বলেন, শুধু নেই বঙ্গবন্ধু, আছে শুধু তাঁর স্মৃতি। স্বাধীন বাংলাদেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর নানা কর্মময় জীবনের স্মৃতি। যা দেখে জাতির পিতার জীবনযাত্রা অনুভব করেন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। এমনি এক স্মৃতি বহন করে চলছে টুঙ্গিপাড়ার বাঘিয়া খাল পাড়ের সেই হিজল গাছ আর হিজলতলা চত্বর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশী শেখ লুৎফর রহমান (৭০) বলেন, খালের ঘাটে স্বচ্ছ পানিতে বঙ্গবন্ধু গোসল করতেন, খালে সাঁতার কাটতেন, হিজল তলায় অবসর সময় কাটাতেন। বিভিন্ন কাজের জন্য এখান থেকেই বঙ্গবন্ধু নৌকায় বের হতেন। সেই থেকে হিজল গাছটি আজও বঙ্গবন্ধুর নানা স্মৃতি কথার সাক্ষী হয়ে আছে।

টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মির্জা বলেন, ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বাধীনচেতা। এলাকার সমবয়সীদের নিয়ে তিনি এই হিজল গাছের নিচে গল্প করতেন। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে বঙ্গবন্ধু গোসল করতেন। রাজনৈতিক সময়ে যখন বাড়িতে আসতেন এই হিজলতলায় বসে এলাকার মানুষের সাথে কথা বলতেন। এখানে এই খালের স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতেন। নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই হিজল গাছের সাথে। তাইতো পৌরসভার পক্ষ থেকে এখানে শান বাঁধানো ঘাট ও সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়ার যেখানে যেখানে বঙ্গবন্ধুর স্পর্শ আছে সেখানেই স্মৃতিচিহ্ন স্থাপন করা হবে।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই, আছে তার সেই প্রিয় ঘাট। আছে সেই হিজল গাছ। ঘাটের দুপাশে তালবীথি। সেই ঘাটে হিজল গাছটি এখনও ঠায় দাঁড়িয়ে। হিজল গাছটি ঠিক যেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কথার সাক্ষী হয়ে আছে।