বাজেট গণমুখী!

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৩:৩৫ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:১০ পিএম, ২৯ জুন ২০১৯ শনিবার

বাংলাদেশের ৪৮তম বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৩ জুন)। এটি সংসদে পাস হবে ৩০ জুন। বাজেট নিয়ে রাজশাহীর মেয়র, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, ব্যবসায়ী নেতারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, ঘোষিত এ বাজেট গণমুখী।

জন্মশতবার্ষিকীতে এ বাজেট বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট। এর আকার যাই হোক না কেন সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশের জন্য এখন এর বাস্তবায়নই বড় কথা। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা। 

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করা হয়েছে, তা জনকল্যাণ ও উন্নয়নমুখী। এ বাজেট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সহায়ক হবে।

মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির জনক যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন শেখ হাসিনা। তার হাত ধরে সোনার বাংলা গড়ার পথে আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, এ বাজেট সেই স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। আরও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সংসদে যে জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে তা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেখা স্বপ্নপূরণে সহায়ক হবে। 

তিনি বলেন, এ বাজেট এমন এক সময় এলো যখন আগামী বছরই বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখেছিলেন। বাজেট তা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

তবে বাজেটে কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে বলেও মনে করেন বাদশা। তিনি বলেন, ‘বাজেটে বিভিন্ন সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার অনুপস্থিতি রয়েছে। যেমন, এবার কৃষকের ধান নিয়ে বড় সংকট দেখা দেয়। এ সংকট কিভাবে সমাধান হবে বাজেটে তা পরিস্কার হয়নি’। 

বাদশা বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে বলা হচ্ছে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বেকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এটা কিভাবে হবে তা স্পষ্ট হয়নি। এটা সম্ভাবনার কথা হলো না।

এছাড়া বাজেটে কিছু পণ্যের দ্রব্যমূল্য বাড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাদশা। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বলছেন- বাজেটের কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়বে না। কিন্তু কিছু নিত্যপণ্যের দাম বাড়বেই। তাই নিত্যপণ্য এবং শিশুখাদ্যের মূল্য যেন না বাড়ে তা আরও ভালোভাবে পর্যালোচনা করা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, সরকারের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট গণমুখি এবং ব্যবসাবান্ধব। এ বাজেট পাস হলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে। সরকার মধ্যম আয়ের দেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন দেখছে তা পূরণেও সহায়ক হবে। বাজেটে সরকার দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা চিন্তা করার পাশাপাশি বাজেটে দেশের উন্নয়নের কথাও বিবেচনা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির এ সাবেক সভাপতি এবং শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী সরকার।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এটি চ্যালেঞ্জিং বাজেট। তবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অর্জন ও এ বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে বাজেটে রাজশাহীর মানুষকে শুভঙ্করের ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. লিয়াকত আলী বলেন, এবার যে বাজেট প্রস্তাব করা হলো তা বাংলাদেশকে নিয়ে সরকারের স্বপ্নপূরণের বাজেট। এটি পাস হওয়ার পর বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। গেল অর্থবছরের বাজেট ছিলো নির্বাচনী বাজেট। তবে এবারের বাজেট স্বপ্নপূরণের। এ বাজেট সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের বাজেট।

তবে সার্বিকভাবে বাজেট কল্যাণকর হলেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেটা পূরণ করতে সরকারকে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। তা না হলে কিন্তু বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য খারাপ হবে। তবে বাজেটে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রও বাড়ানো হয়েছে। তাই নতুন ক্ষেত্রগুলো থেকে যেন রাজস্ব আদায় হয় সে জন্য যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। তাহলে বাজেটে স্বপ্নপূরণ সহজ হবে, না হলে হবে না।

স/এস এম সি