ব্রেক্সিটপন্থীদের প্রচারণায় বাংলাদেশে তৈরি টি-শার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০১:০৬ পিএম, ১৮ জুন ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৬:২৮ পিএম, ২৯ জুন ২০১৯ শনিবার

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ব্রেক্সিট পার্টি। এ নির্বাচনে ব্রিটেনে একক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে দলটি। মোট প্রদত্ত ভোটের ৩১ শতাংশ পেয়েছে তারা। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হওয়া নিশ্চিত করতেই নতুন এ রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল দেশটির ব্রেক্সিটপন্থী নেতারা। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের নির্বাচনে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে নির্বাচনি প্রচারণার ইস্যু করেছিল দলটি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ব্রেক্সিটের প্রচারণায় তারা যে টি-শার্ট ব্যবহার করছে খোদ সেটিই যুক্তরাজ্যের মাটিতে তৈরি নয়। এটি আসলে বাংলাদেশে তৈরি।

দলটির শীর্ষস্থানীয় পৃষ্ঠপোষকরা ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণার অংশ হিসেবে এসব টি-শার্ট বিক্রি করছে। লিভ ডট ইইউ নামের এই পৃষ্ঠপোষক গ্রুপটির অর্থায়ন করেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী অ্যারন ব্যাংকস। কট্টর ইইউ বিরোধী নাইজেল ফারাজ এবং তার ইউরোপবিরোধী প্রচারণার বড় ধরনের পৃষ্ঠপোষক তিনি।

 

ব্রেক্সিট বিরোধী প্রচারণা এবং তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে লিভ ডট ইইউ ব্র্যান্ডের টি-শার্ট বিক্রি করছে। এগুলোর দাম ধরা হয়েছে ২০ পাউন্ড করে। অথচ কথিত কট্টর জাতীয়তাবাদী প্রচারণায় ব্যবহৃত এই টি-শার্টগুলো বাংলাদেশে তৈরি।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির এমপি ভিরেন্দ্র শর্মা বলেন, এই লোকগুলোর ব্রিটিশ নাগরিকদের চাকরি নিয়ে কোনও মাথাব্যাথা নেই। তারা শুধু একটি কঠিন ব্রেক্সিটের জন্য তাদের মতাদর্শগত স্বপ্ন লালন করছে।

লিভ ডট ইইউ-এর পক্ষ থেকে অবশ্য যে কোনও ধরনের কপটতা বা ভণ্ডামির অভিযোগ নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রুপটির একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা ক্ষুদে ইউরোপীয়ান নই, বরং আন্তর্জাতিকতাবাদী। আমরা কমনওয়েলথ দেশগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে ভালোবাসি।

যুক্তরাজ্যে লিভ ডট ইউ ব্র্যান্ডের টি-শার্টগুলোর লেভেলে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান গিলডান-এর নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে টি-শার্টগুলো তারা বাংলাদেশে তৈরি করেছে। ঢাকার ওই ফ্যাক্টরির উন্নয়নে তারা লাখ লাখ পাউন্ড ব্যয় করেছে। কারখানাটিতে সাড়ে তিন হাজার মানুষ কর্মরত রয়েছেন।

বর্তমানে তৈরি পোশাক রফতানির দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। এখানে প্রায় চার হাজার ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন প্রায় ৪০ লাখ কর্মী।

২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউ-র সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। এ চুক্তি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাস করানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও থেরেসা মে তিন দফায় তা হাউস অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে তৃতীয় দফায় চুক্তিটি পার্লামেন্টে তোলার আগে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন থেরেসা মে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের রাজি করানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও শেষ পর্যন্ত তাতে সফলতা পাননি তিনি।

স/এস এম সি