বড়াইগ্রামের গোয়ালিফা বিলে জলাবদ্ধতায় বিপাকে চাষীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:০০ পিএম, ৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার

নাটোরের বড়াইগ্রামের গোয়ালিফা কামগাড়ি বিলে নালা বন্ধ করে দেয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ রুদ্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে এ বিলের প্রায় পাঁচশ বিঘা জমি সারা বছর পানির নীচে ডুবে থাকে। ফলে এসব জমিতে বর্তমানে কোন ফসল না ফলায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ এলাকার কৃষকেরা।

এলাকাবাসী জানান, কামগাড়ি বিলের পানি বের যাওয়ার জন্য কৃষকেরা নিজেরা প্রায় ৬ হাত প্রস্থের একটি নালা কেটেছিলেন। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে নালার মুখে সিরাজউদ্দিন ভূঁইয়া নামে এক কৃষক তার জমিতে পুকুর তৈরী করায় নালার মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিলের পানি বের হবার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছর বৃষ্টির পানি জমে এ বিলে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে বিলের তিন ফসলী এসব জমিতে কোন ফসল ফলন ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রায় ৫’শ বিঘা জমিতে কোন আবাদ না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন জমির মালিকেরা।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো বিল জুড়ে কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও কোমর পানি। দীর্ঘদিন যাবৎ চাষাবাদ না হওয়ায় পুরো বিল জলজ উদ্ভিদসহ বিভিন্ন আগাছায় ভরে গেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষক ইউনুস আলী বিদ্যুৎ জানান, এ বিলে আমার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে সারা বছর ফসল ফলতো। কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ জলাবদ্ধতার কারণে এ জমি থেকে কোন আবাদ ফসল পাই না।

অপর কৃষক ইয়াসিন আলী জানান, আমার জমিই মাত্র আড়াই বিঘা, যার সবটুকু এই বিলে। সারা বছর সে জমি পানিতে ডুবে থাকলে ছেলেমেয়ের মুখে ভাত তুলে দেই কিভাবে বলেন। আমাদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে দ্রুত এ বিলের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, নালার মুখ আটকে দিয়ে পুকুর বানানোর কারণে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পুকুরের পাশ দিয়ে নালা তৈরী করে দিলে অথবা বিলের মুখে পৌরসভার উদ্যোগে ড্রেন তৈরী করে পাশের বড়াল নদীতে পানি পড়ার ব্যবস্থা করে দিলে কোন প্রকার জলাবদ্ধতা থাকবে না।

বড়াইগ্রাম পৌরসভার মেয়র আব্দুল বারেক সরদার জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলোচনা করে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষপে নেয়া হবে।