ভাঙ্গুড়ায় অবশেষে দশ টাকা কেজিতে ভালো মানের চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:১২ পিএম, ২২ মে ২০২০ শুক্রবার

অবশেষে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ভালো মানের চাল বিতরণ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে উপজেলার সুবিধাভোগীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি মূল্যে এই চাল বিতরণ করেন মোট চয়জন ডিলার। সে সময় চালে দুর্গন্ধ ও সাদা পাউডারের মত প্রলেপ থাকার অভিযোগ ওঠে। রান্নার পরে ভাত থেকে দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে গত ১৩ মে দৈনিক মানবজমিন ও স্টুডেন্টজার্ণালবিডিতে “ভাঙ্গুড়ায় দশ টাকা কেজিতে অখাদ্য চাল” শিরোনামে বাংলার জমিনপাতায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে ভাল মানের চাল বিতরন শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দশ টাকা কেজি দরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৪৬৪৭ জন সুবিধাভোগী রয়েছেন। প্রতিবার তারা ৩০ কেজি করে চাল পান। বছরের মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১২ জন ডিলারের মাধ্যমে এই চাল বিতরণ করা হয়।

তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে মে মাসেও এ চাল বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু গত দিন গুলোতে চালে এক ধরনের দুর্গন্ধ ও সাদা পাউডারের মতো আবরণ থাকায় সুবিধাভোগীদের এই চালের ভাত খেতে কষ্ট হচ্ছিল।তবে উপজেলা খাদ্য অফিস এর দাবি ছিল, ওই চালে পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভিটামিন ও মিনারেল মিশ্রণ করা হতো। তাই চালে এক ধরনের গন্ধ ও সাদা পাউডারের মতো আবরণ ছিল।

সুবিধাভোগী উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের আব্দুল মালেক বলেন, আগে দেওয়া চাল খেতে খুবই কষ্ট হতো। কিন্তু চলতি সপ্তাহের বিতরণ করা চাল অনেক ভালো মানের। এই চালে কোনো গন্ধ বা পাউডারের মতো কোনো আবরণ নেই। এতে চাল খেতে আর অসুবিধা হচ্ছে না। সারা বছর এ রকম চাল দেওয়া হলে আমরা অনেক উপকৃত হব।

পার ভাঙ্গুড়া ইউয়িনের ডিলার মোখলেসুর রহমান সাইদ বলেন, এর আগের বরাদ্দের চাল খেতে সুবিধাভোগীদের একটু অসুবিধা হলেও এখন আর হচ্ছে না। আগের চেয়ে চালের মান অনেক ভালো। সুবিধাভোগীরা এখন এই চাল পেয়ে খুব খুশি। উপজেলা খাদ্য অফিসের লোকজন সব সময় চেষ্টা করে আমাদের ভালো মানের চাল দিতে। কিন্তু অনেক সময় ঠিকাদারের মাধ্যমে চাল পেলে সেটার মানটা একটু খারাপ হয়ে যায়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, আমরা সব সময় চেষ্টা করি ভালো মানের চাল সরবরাহ করতে। কিন্তু চাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় মান কিছুটা নিম্নমুখী হয়। আর এর আগের চালে ভিটামিন ও মিনারেল মিশিয়ে পুষ্টিযুক্ত চাল তৈরি করায় এক ধরনের গন্ধ ও চালের উপরে সাদা পাউডারের মতো আবরণ ছিল। তবে এবার সে ভিটামিন ও মিনারেল মিশ্রণ না থাকার কারণে চালে কোনো ধরনের গন্ধ বা পাউডারের আবরণ নেই।

স/মা