ভাঙ্গুড়ায় এসএসসির প্রবেশপত্র পেতে গুনতে হচ্ছে টাকা

শাহিবুল ইসলাম পিপুল, ভাঙ্গুড়া

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩৬ পিএম, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী নামীয় এক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত কোচিং ক্লাসের নামে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

বরিবার এই দুপুরে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাকা দিতে না পারায় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র নিতে পারেনি। এই নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এক শির্ক্ষাথী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে জানা যায়, ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য গত নভেম্বর মাসে এই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১১৭ জন ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৬২ জন, মানবিক বিভাগে ৪৭ জন ও ব্যাবসায় শিক্ষা বিভাগে রয়েছেন আট জন। এই ফরম পূরনের সময়ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ফরম পূরনের পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষার্থীদের জন্য ডিসেম্বর ও জানুয়ারী দুই মাসের জন্য মাসিক ৫০০ টাকায় অতিরিক্ত ক্লাসের আয়োজন করে। এই অতিরিক্ত ক্লাসের প্রতি বেশ কিছু শিক্ষার্থী আপত্তি করলে তাদের ব্যবহারকি পরিক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হবে বলে শাসানো হয়। এত বাধ্য হয়ে অনেকেই এই অতিরিক্ত ক্লাস করে।

এরপর গত মাসের ২৫ তারিখে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিদ্যালয়ে আসলে কর্তৃপক্ষ তা বিতরণ শুরু করেন। এই সময় তারা কৌশল করে অতিরিক্ত ক্লাসের ফি বাবদ ১ হাজার থেকে ৮ শত করে টাকা নিয়ে প্রবেশপত্র দিতে থাকে। কিন্তু বেশকিছু শিক্ষার্থী হতদরিদ্র হওয়ায় রবিবার দুপুর পর্যন্ত টাকা না দিতে পারায় প্রবেশপত্র নিতে পারেনি। নিরুপায় হয়ে এক শির্ক্ষাথী রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পরীক্ষার্থী সাথে কথা বলে জানা যায়, অতিরিক্ত ক্লাসের টাকা না দেয়ায় তাদের প্রবেশপত্র বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দেয় নি। আবার যারা অতিরিক্ত ক্লাস করেনি তাদেরকাছ থেকেও একইভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে। মূলত ব্যবহারিক পরীক্ষার কিছু নম্বর তাদের হাতে থাকায় তারা এই সুযোগ নিচ্ছে। ফলে পরীক্ষার আগে দুশ্চিন্তায় কাটছে তাদের সময়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেদায়েতুল হক বলেন, অতিরিক্ত ক্লাসের নামে টাকা আদায় বা প্রবেশপ্রত্র আটকে রাখার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। আমার প্রতিষ্ঠানে কোন শির্ক্ষাথীর প্রবেশপত্র র্বতমানে নেই।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত কোচিং ক্লাসের নামে টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। আমি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব।

স/এমএস