মুখোমুখি রাজশাহীর দুই এমপি: বাদশাকে ফারুকের উকিল নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ১১:৩৩ এএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯ শনিবার

মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন রাজশাহীতে ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দুই দলের দুই সাংসদ ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। একটি পত্রিকায় বাদশা ফারুক চৌধুরীকে ফ্রিডম পার্টি ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা উল্লেখ করায় উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। 

জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, `খুনি ফারুক-রশিদের শিষ্যরা এখন কেউ এমপি, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ মানবাধিকারকর্মী, কেউ অন্য দলের নেতা`।

এতে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার বক্তব্যে বলা হয়, `তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় ফারুক চৌধুরীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই সময় ফারুক চৌধুরী প্রথমে ফ্রিডম পার্টি, পরে ছাত্রদল করে রাকসু নির্বাচনে অংশ নেন। ফ্রিডম পার্টির মিছিলে সামনের সারিতে থাকতেন ফারুক চৌধুরী। ওই সময় ফ্রিডম পার্টির মিছিলে কয়েকবার লাঠি নিয়ে ধাওয়া করেছিলেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি ফারুক চৌধুরীকেও ধাওয়া করেছেন।`

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফারুক চৌধুরী বলেন, `আমার ফ্রিডম পার্টি বা ছাত্রদল করার তথ্য সত্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ও চাচা মকবুল হক চৌধুরীকে তুলে বাবলা বনে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী। আমার মামা জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমার মামাকে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয়। আমরা বরাবরই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ। মূলত আমি ব্যবসায়ী ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় ২০০০ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে একবার প্রতিমন্ত্রী এবং তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হই। এসব কারণে জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ফজলে হোসেন বাদশা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে ইমেজ নষ্ট করছেন।`

তিনি বলেন, আমার কারণে আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার দৌঁড়ে এগোতে পারছেন না বাদশা। তাই তিনি এসব বক্তব্য দিয়ে আমাকে ছোট করছেন। কিছুদিন আগে আমার শহীদ বাবাকে রাজাকার বলে বক্তব্য দিয়েছেন আসাদ।

তারা সবাই একজোট হয়ে ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। তাই আপাতত আইনি নোটিশ দিলাম। তিনি সাত দিনের মধ্যে আমাকে বা আমার আইনজীবীকে লিখিত জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে এবং ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করব। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি স্পিকারের মাধ্যমে সংসদেও জানাবেন।

এ বিষয়ে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ফারুক চৌধুরী ফ্রিডম পার্টি করতেন, এটা সবাই জানেন। মামলা করলে হাজার হাজার সাক্ষী দেওয়া যাবে। বিএনপি নেতা কবির হোসেনের গুণ্ডা বাহিনীতে ছিলেন ফারুক। তা ছাড়া আমি সংসদ সদস্য। আমাকে আইনি নোটিশ দিতে পারবেন না তিনি। দিলেও আমি রিসিভ করব না। আর মামলা করলে আমি গোয়েন্দা বিভাগকে চিঠি দেব ফারুক চৌধুরীর পরিবারের কে কোন রাজনীতি করতেন, তা তদন্ত করে বের করার জন্য।

গত বুধবার ওমর ফারুক চৌধুরীর পক্ষে উকিল নোটিশটি পাঠান রাজশাহী জজকোর্টের আইনজীবী এজাজুল হক মানু।