মৃত্যুও আলাদা করতে পারেনি বাবা-মেয়েকে, পদ্মায় মিলল জড়িয়ে ধরা লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:১৯ পিএম, ৭ মার্চ ২০২০ শনিবার

আদরের মেয়েকে শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত বুকে আগলে রেখে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। বাবা বাঁচাতে পারেননি তার বুকের রত্নকে। মেয়ের সঙ্গে তিনিও মারা গেছেন রাজশাহীর পদ্মানদীতে ডুবে। কিন্তু মৃত্যু ও পদ্মার অথৈ ঢেউ দূরে সরাতে পারেনি বাবা-মেয়েকে। মৃত্যুর পরও তাই মেয়ে ছিলেন বাবার কোলে জড়িয়ে। যেন বাবার বুকে পরম মমতায় ঘুমিয়ে আছেন শিশু মদিনা ওরফে রশ্মি (৮)।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শামীম (৩৮) ও তার মেয়ে রশ্মির জড়িয়ে ধরে থাকা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় ৪১জনকে নিয়ে দুটি নৌকা ডুবে যায়।  তারা সবাই পবা উপজেলার চরখিদিরপুর থেকে বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে শহরে ফিরছিলেন। এ দুর্ঘটনার পর বরসহ ৩২জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। অন্য ৯জন নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার বিকেল পর্যন্ত বাবা-মেয়েসহ মোট ৬জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। কনে সুইটিসহ আরো ৩জন এখনো নিখাঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে গঠিত কমিটির সমন্বয়কারি আবু আসলাম বলেন, ‘শামীম ও রশ্মির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা যখন তাদের লাশ উদ্ধার করি তখন শামীমের কোলে তার মেয়ের লাশ জড়িয়ে ছিল। এ পর্যন্ত ৬জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ৩জন নিখোঁজ রয়েছে। আমরা তাদের উদ্ধারে কাজ করছি।

প্রসঙ্গত, গতরাতে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর বিয়ের কনে সুইটির ভাগ্নি নগরীর বসুয়া এলাকার রতনের মেয়ে মরিয়মকে (৬) মৃত. ঘোষণা করেন চিকিৎসক। শনিবার সকালে সুইটির চাচী শামীমের স্ত্রী মনির (৩০) লাশ উদ্ধার করা হয়। বিকেলে দুর্ঘটনাস্থলের পাশ থেকেই মনি’র স্বামী শামীম ও মেয়ে মদিনা ওরফে রশ্মির লাশ উদ্ধার হয়। এর আগে দুপুরে উদ্ধার হয় কনে সুইটির খালাতো ভাই এখলাসের (২৫) ও দুলাভাই রতনের (৩০) লাশ। নিখোঁজরা হলেন কনে সুইটি (১৮) তার খালা আঁখি (২২) ও ফুপাতো বোন রুবাইয়া (১২)। তাদের উদ্ধারে কাজ করছে নৌপুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ’সহ অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা।

এন/কে