যারা জীবন বাঁচান তারাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০১:৩৮ পিএম, ১২ জুন ২০১৯ বুধবার | আপডেট: ০২:১৭ পিএম, ১২ জুন ২০১৯ বুধবার

রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচার কিংবা থেরাপি দিয়ে যারা জীবন বাঁচান তারাই রয়েছেন মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান মেশিন, ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহার করা রেডিওথেরাপির যন্ত্রপাতি, এবং হৃদরোগের ক্যাথল্যাব সংশ্লিষ্টদের টিএলডি বা ফিল্ম ব্যাজ পরার কথা থাকলেও সরকারি হাসপাতালে সেই নিয়ম মানছেন না কেউ। এমনকি, রেডিয়েশন থেকে সুরক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা থাকলেও তা নেন না টেকনোলজিস্টরা।

রেডিওথেরাপিসহ বেশকিছু যন্ত্রপাতিতে যে তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় তা থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়। রোগীদের এতে খুব একটা ক্ষতি না হলেও যারা যন্ত্রগুলো পরিচালনা করেন তাদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।  

প্রকৃতি থেকে মানুষের শরীরে যে পরিমান তেজস্ক্রিয়তা প্রবেশ করে এসব যন্ত্রপাতি থেকে তার তিন থেকে ছয়গুণ বেশি প্রবেশ করতে পারে। যা থেকে হতে পারে ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধি। 
 
কার্ডিওলজি বিভাগের (এইআইসিভিডি) অধ্যাপক, ডা. মাহবুবুর রহমান বাবু বলেন, `রেডিয়েশন ঝুঁকির কারণে আমাদের বিভিন্ন যায়গায় ক্যান্সার হতে পারে। ব্রেনে কিংবা ব্লাড ক্যান্সার হতে পারে। স্কিন ও থাইরয়েডে ক্যান্সার হতে পারে। এছাড়াও চোখে ছানি পড়তে পারে।` 

এসব যন্ত্র পরিচালনায় থাকা ডাক্তার এবং টেকনোলজিস্টদের শরীরে কি পরিমাণ রেডিয়েশন প্রবেশ করেছে তা নির্ণয় করতে তাদের টিএলডি ব্যাজ বা ফিল্ম ব্যাজ পরার কথা। এতে রেডিয়েশনের মাত্রা বেশি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলছেন, বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ব্যাজ পরলেও তা করছেন না সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টরা।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ`র চেয়ারম্যান ডক্টর নঈম চৌধুরী বলেন, `প্রাইভেট সেক্টরেররা এখানে আসছে এবং ট্রেনিং নিয়ে যাচ্ছে, যেহেতু এটা আইনগত ভাবে বাধ্যতামূলক। আর সরকারি খাতে আমরা এই ট্রেনিংটা ঠিক মত দিতে পারছি না।`  

সরকারি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, চিকিৎসকরা সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন ক্যাথল্যাবে কাজ করলেও লোকবল সংকটের কারণে অন্যান্যদের সপ্তাহে ছয়দিনই কাজ করতে হয়। এতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। তারা জানান, তাদের কোনো ঝুঁকি ভাতা নেই, এই ভাতা দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। 

এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের আশায় আছেন সংশ্লিষ্টরা।

স/এস এম সি