যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যাওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ঘোষণা হাস্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজ রাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:০৭ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ সোমবার

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চালিয়ে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছে তা হাস্যকর। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের নিজেদের মধ্যে রেখে এমন ঘোষণা জাতির সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

সোমবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ ও আওয়ামী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের এক নির্বাচনি সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাবির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী সদর আসনে ১৪ দল মনোনীত ও মহাজোট সমর্থিত নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ড. কামাল হোসেন মুখে বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার নেতা। আর তিনি হাত ধরেন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের। এবার তার লুকায়িত রূপ আমাদের সামনে এসেছে। এতোদিন লুকিয়ে ছিল। বাদশা বলেন, কয়েকদিন আগে জামায়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় ড. কামাল সাংবাদিকের সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠায় তাদের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধিদের বিচার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মনের কথা নয়।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর আমাদের দেশের এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবীরা অমর্ত্য সেনকে ভারত থেকে এনেছিলেন। ভেবেছিলেন, অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। কিন্তু যারা তাকে আনলেন, তাদের সামনে দাঁড়িয়েই অমর্ত্য সেন বললেন, বাংলাদেশ এক উদীয়মান সূর্য। বিভিন্ন সূচক তুলে ধরে তিনি এ কথা বললেন। তাই বোঝা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন আর লুকিয়ে নেই। এটা পুরো বিশ্বের কাছে পরিস্কার। এই উন্নয়ন ধরে রাখতে আসন্ন নির্বাচনে নৌকার কোনো বিকল্প নেই।

সভায় রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আব্দুস সোবহান বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা খুব সহজেই অর্জিত হয়নি। অনেক প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে এই দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে তা হতে পারে না। এই নির্বাচনে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানেরা ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন। তারা নির্বাচিত হলে স্বাধীনতার শত্রুরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তাই তারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচিত হতে না পারেন এ জন্য সজাগ থাকতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে নৌকায় ভোট দিতে হবে। ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। আমরা রাজশাহী সদর আসনে ফজলে হোসেন বাদশাকে নির্বাচিত করব। প্রতিটি আসনে এভাবে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসবেন। বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

সংগঠনের সদস্য সচিব প্রফেসর ড. আবদুল গণির সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন রাবির উপ-উপাচার্য ড. আনন্দ কুমার সাহা, প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া, রাবি প্রশাসনের কোষাধ্যক্ষ একেএম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ প্রমুখ।