রাজশাহীতে আউশের বাম্পার ফলন, শ্রমিক সংকটে বিপাকে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:০৮ পিএম, ৭ অক্টোবর ২০১৯ সোমবার

রাজশাহীর উপজেলা গুলোতে এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভরা মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের জন্য পাওয়া যাচ্ছে না পর্যাপ্ত শ্রমিক। ফলে জমিতে থাকা পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এ দিকে, গত কয়েক বছর থেকে কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় শ্রমিক সংকটের কারণে অধিকাংশ জমির মালিক তাদের চাষের জমি এখন বর্গা (আধি) দিতে শুরু করেছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।

রাজশাহী নয়টি উপজেলার মধ্যে বাগমারা ধান উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত। এই উপজেলার প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক কৃষি শ্রমিক এখন অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন। তাদের কেউ কেউ কৃষি কাজে শ্রম বিক্রির বদলে ভ্যান ও ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালাচ্ছেন।

নয়তো আলুর স্টোরের শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি, কেউবা ভাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। আবার অনেকে মাছ উৎপাদন ও মাছ পরিবহনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এসব কাজে অল্প শ্রম দিয়ে বেশি মজুরি পাওয়ার জন্য কৃষি শ্রমিকরা তাদের পৈত্রিক পেশা ছেড়ে এখন এসব পেশায় জড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগমারা উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সার বীজের সহজ প্রাপ্যতা ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার।

সম্প্রতি জমির সবুজ ধান পেকে সোনালী বর্ণ ধারণ করায় কৃষক ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষক। এই উপজেলায় ধান কাটা ও মাড়াই কাজ করার জন্য পাশের জেলা ও উপজেলা থেকে কৃষি শ্রমিক আনতে হচ্ছে। এসব শ্রমিকরা ধান কাটাই মাড়াই শেষে প্রতি মন (৪০ কেজি) ধান থেকে সাত কেজি হারে ধান নিয়ে থাকেন। এছাড়া তাদের তিন বেলা খাবারসহ আপ্যায়ন করতে হয় কৃষককে। এতে ধান চাষে কৃষকের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

বাগমারা উপজেলার দেওলা গ্রামের গ্রামের কৃষি শ্রমিক আজাদ, আনিছার, মজনু সহ ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক জানান, তারা আগে চাষাবাদের কাজে শ্রম বিক্রি করতেন। তাদের মতে, চাষাবাদে মজুরি কম এবং সময় লাগে বেশি। এছাড়া চাষাবাদে হাজিরা হিসেবেও মজুরি কম পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য চুক্তি ভিত্তিক কাজে কম পরিশ্রম করে বেশি মজুরি পাওয়া যায়। তাদের মতে, এসব কারণে দিনদিন চাষাবাদের কাজে কৃষি শ্রমিকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

হামিরকুৎসা গ্রামের কৃষক মঞ্জুর রহমান জানান, পৈত্রিক সূত্রে তাদের প্রায় বিশ একর জমি। বাপ দাদার আমল থেকেই তারা কৃষক। কিন্তু বর্তমানে শ্রমিকের অভাবে তারা তাদের জমি গুলো বর্গা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মঞ্জুর ভাই রফিক জানান, বর্তমানে শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। পাওয়া গেলেও তারা ব্যাপক মজুরি দাবি করে বসে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাজিবুর রহমান জানান, আউশ ধান কাটা ও মাড়াই  মৌসুমে এই উপজেলায় শ্রমিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তার মতে কৃষি শ্রমিক না পাওয়ায় চাষাবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। তবে এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক খরচ কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবে।

কৃষি কর্মকর্তার মতে, কৃষিতে পুরো মাত্রায় যদি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয় তবে এই সঙ্কট অনেকাংশে কমে যাবে। এজন্য সরকার কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া শুরু করেছেন। এতে কৃষকদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।