রাজশাহীর আম বাজারে খোঁজ নেই পাইকারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৫৭ এএম, ১৮ মে ২০২০ সোমবার

রাজশাহীর বাজারে গুটিজাতের আম নামতে শুরু করেছে। ২০ মে থেকে নামার কথা রয়েছে গোপালভোগ জাতের আম। কিন্তু এখনো দেখা মিলছে না পাইকারদের। ফলে এখনো আম বিক্রি করতে পারছেন না চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তবে গুটিজাতের আম কিনে আঁচার তৈরী করতে কিছুসংখ্যক ব্যবসায়ী আসছেন। তবে সেটিও হাতেগোনা কয়েকজন। ফলে গুটিজাতের আম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা মণ দরে।

এদিকে বাগানের আম পোক্ত হয়ে বাজারজাত শুরু হলেও এখনো খোঁজ মিলছে না পাইকারী ক্রেতাদের। যারা অন্যনান্যবার আরও এক-দুই মাস আগেই বাগান ধরে আম কিনে নিতেন। কিন্তু এবার রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর এবং নওগাঁতেও পাইকারদের দেখা মিলছে না বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা। এভাবে চলতে থাকলে সামনে ভালো জাতের আম নামতে শুরু করলেও তেমন দাম পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এতে করে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষীদের মাঝে।

গতকাল রাাজশাহীর বৃহৎ বানেশ্বর বাজারে খোঁজ নিয়ে যায়, এ বাজারে গতকাল আম জড়ো হয় সর্বোচ্চ ২০০ মণ। কিন্তু এই আম কেনারই তেমন ক্রেতা ছিলো না। হাতে গোনা কয়েকজন ক্রেতা এসে আমগুলো কিনে নিয়ে যান। তবে আমচাষীরা ন্যায্যমূল্য পাননি বলে দাবি করেন তারা।
তাঁদের দাবি, অন্যান্য বছর গুটিজাতের আম বিক্রি হয় ৮০০ থেকে শুরু করে ১২শ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এবার ক্রেতা না থাকায় সেই আম বিক্রি করতে হচ্ছে অনেকটা পানির দাম। কিছু ক্রেতা আসছেন, তারা আঁচার কম্পানীর কাছে আম বিক্রি করবেন। কিন্তু গুটিজাতের আম কেনার বড় পাইকার প্রাণ গ্রুপ এখনো আম কিনতে বাজারে নামেননি। ফলে এবার আমের দাম শুরুতেই অনেকটা কম বলে দাবি করেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে গতকাল আম বিক্রি করতে যাওয়া চারঘাটের ইউসুফ আলী বলেন, ‘এবার আমের ক্রেতা নাই। অথচ গত ১৫ মে থেকে আম নামতে শুরু করেছে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বিক্রি করার লোক পাচ্ছি না। বানেশর হাটে নিয়ে এসেও দাম পাচ্ছি না তেমন। এমনিতেই এবার আমের ফলন ভালো হয়নি। তার ওপর দাম এভাবে কম পেতে থাকলে বড় ধরনের লোকসানেরমুখে পড়বো।’

আরেক আমচাষি দুর্গাপুরের আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ক্রেতা নাই। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই আম ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। করোনার কারণে ক্রেতারা আসছে না এখনো। বাগানের আমও বিক্রি হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চাষিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বো। অথচ অন্যান্যবার আরও দুই মাস আগেই বাগান থেকেই চুক্তিতে বেশিরভাগ চাষি আম বিক্রি করে দিতেন। এবার ক্রেতা না থাকায় সেটিও বন্ধ হয়ে আছে। আবার হাটেও ক্রেতা আসছে না। তাহলে চাষিরা যাবে কোথায়?’

নাটোরের লালপুরের লোকমান হোসেন বলেন, ‘গুটি আম কেনার লোক নাই। যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে খরচের টাকাও উঠবে না। এখানকার বাজারে আম বিক্রি করে শ্রমিকের দাম, গাড়িভাড়া, হাটের চাঁদা দিতে গেলে আম বাগানের পরিচর্যা করতে যে ব্যয় হয়েছে সেই টাকাও উঠবে না। এ কারণে আম গাছেই রেকে দিয়েছি। দেখি ঈদের পরে দাম বাড়ে কিনা। তবে ঈদের পরে গুটি আম অধিকাংশই গাছ থেকে ঝরে পড়ে যাবে। তার পরেও অন্তত ৮০০ টাকা মণ পেলেও কিছু টাকা পকেটে থাকবে।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্যবার বাগান বিক্রি হয়ে যেত। এই সময় সেই টাকা দিয়ে ধার-দেনা পরিশোধ করার পরেও বিভিন্ন কাজে লাগানো যেত। কিন্তু এবার এখন পর্যন্ত পাইকারী ব্যবসায়ীরা নামেনি করোনাভাইরাসের কারণে। ফলে অধিকাংশ বাগান মালিকই বাগান নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।’

স/র