রাজশাহীর আ`লীগ নেতাদের ফের ঢাকায় তলব

ডেস্ক নিউজ

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার | আপডেট: ০৬:২১ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চলমান চরম বিরোধ ও সংগঠনের অচলাবস্থা নিরসনে দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকায় তলব করা হয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের। আজ শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা হওয়ার কথা। এর আগে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর তাদের ঢাকায় তলব করা হয়েছিল। সে সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল হক মাসুদসহ তিন নেতাকে শোকজ করা হয়েছিল। তবুও সতর্ক হননি আসাদ।

গত ৬ জুলাই দলীয় একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আসাদুজ্জামান আসাদ দলীয় সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে রাজাকারপুত্র বলেছিলেন। তার এমন মন্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রত হন। এ কারণে গত ১৩ অক্টোবর রাজশাহী বিভাগীয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি জেলার এ দুই নেতাকে।

সে সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বের কারণে তাদের বক্তব্য দিতে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাদের ঢাকায় তলবের বিষয়টি ওই দিনই তিনি প্রকাশ করেছিলেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরীকে সভাপতি ও আসাদুজ্জামান আসাদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তখন দুই নেতার সম্পর্ক খুবই মধুর ছিল। ওমর ফারুক চৌধুরী জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব আসাদের ওপর দিয়ে নিশ্চিন্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগে আসাদ ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের বাদ এবং অনুগতদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠন করেন। পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন,

পৌরসভা, উপজেলা নির্বাচনসহ সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি আসনেই আসাদ উস্কানি দিয়ে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীকে মাঠে নামান। এতে আসনগুলোতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এ থেকে বাদ যায়নি ওমর ফারুক চৌধুরীর নিজের আসনটিও। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে এ আসনে ১১ জনকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়। এ কারণে নির্বাচনের আগে সেখানে হট্টগোল, মারামারি ও অস্থিরতা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, `গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত প্রার্থী মাহাবুব জামান ভুলুর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন মোহাম্মদ আলী। আসাদ মোহাম্মদ আলীর পক্ষ নিলে ভুলু পরাজিত হন। এই শোকে কিছুদিন পরেই তিনি মারা যান। এ থেকেই আসাদের সঙ্গে আমার বিরোধের সূচনা। এর পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সংসদ নির্বাচনেও তার নিজস্ব লোকদের প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামিয়ে সংগঠনে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়। গত উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তারা এখনও আসাদের সঙ্গে আছেন। তিনি রাজশাহীতে আসাদ লীগ তৈরি করেছেন। তার মতের বাইরে কেউ গেলেই দলীয় সভা-সমাবেশে বাজেভাবে গালাগালি করা হয়।`

ওসর ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, `তিনি আমাকে রাজাকারপুত্র বলে গালি দেন। অথচ আমার বাবা ৭১-এর শহীদ। আমার বাবা জাতীয় নেতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের পরিবারকে নিরাপদে ভারতে পাঠিয়েছিলেন বলেই রাজাকাররা আমার বাবা ও চাচাকে ধরে নিয়ে ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর বাবলা বনে হত্যা করে। রাজশাহীর মানুষ এখনও আমার বাবা ও চাচার স্মরণে ২৫ নভেম্বর পালন করে। আর সেই মানুষটাকে রাজাকার বলে আসাদ অপমান করছেন। তার মতো লোককে দলে রেখে তো আর শুদ্ধি অভিযান হবে না। তাই যারা বিভিন্ন সময় নৌকার বিরোধিতা করেছে, তাদের দল থেকে বাদ দিয়ে কাউন্সিল শুরু করা উচিত। ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতারা ডেকেছেন। সেখানে এসব দাবি জানানো হবে।`

বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিরুল ইসলাম সান্টু বলেন, চারদলীয় জোটের সৃষ্টি বাংলা ভাইয়ের বিরুদ্ধে আমিসহ বাগমারার ১১ জন আওয়ামী লীগ নেতা মিছিল করেছিলাম। একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ এনামুল হকের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগ এনে আমাদের সবাইকে ২০১৭ সালে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সুপারিশের তিন মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত না দিলে স্বপদে বহাল থাকার কথা। কেন্দ্র থেকে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবুও সাংসদ এনামুল হকের সঙ্গে যোগসাজশ করে আসাদুজ্জামান আসাদ আমাদের স্বপদে ফিরতে দেননি। তাদের ইচ্ছায় বাগমারার ৪৮ হাজার দলীয় নেতাকর্মীর সদস্যপদ নবায়ন করা হয়নি। আসাদ জেলা আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করছেন বলেও মন্তব্য করেন সান্টু।

এসব অভিযোগ বিষয়ে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, `দলীয় অচলাবস্থা নিরসনে কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় তলব করেছেন। সেখানে কী বিষয়ে আলোচনা হবে তা যারা ডেকেছেন, তারাই বলতে পারবেন। শুনেছি, ওই সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থাকবেন। জেলা আওয়ামী লীগেরও সবাই থাকবেন। আমি চাই, ওই সভায় অভিযোগগুলো ফারুক চৌধুরী করুন। ডকুমেন্টসহ জবাব সেখানেই দেব।` সূত্র: সমকাল