রাজশাহীর দারুশায় চলছে অবৈধ ফিড মিল, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৪:৫৪ পিএম, ৪ মে ২০২০ সোমবার

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে চলছে যখন বিশ্ব কাঁপছে। দেশেও বেড়ে চলছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এরই মধ্যেও রাজশাহী জেলার পবা উপজেলার দারুশায় কোন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়ায় অবৈধ ফিড মিলের কাজ চলছে নিজস্ব গতিতে।
 
ফিড মিলের পার্শ্বে জনবসতি, তবুও মিল কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই অবাধে মিল চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে যেসকল শ্রমিক কাজ করছেন তারাও রয়েছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে।
 
পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিএসটিআইয়ের কোন ধরণের ছাড়পত্র ছাড়াই উপজেলার দারুশা বাজারের মেসার্স মতিউর ফিলিং স্টেশন এর পাশে হলুদ কালারের বিল্ডিং এ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই এই ফিড মিল পরিচালনা করেন মোফাজ্জল হোসেন হোসেন নামের এলাকার এক ব্যাক্তি। প্রসাশনের নজর এড়াতে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের কোন সাইডবোর্ডও ব্যবহার করেননি। যার ফলে গোপনে অবৈধ ফিড মিলের বাণিজ্যের ফাইদা লুটছেন।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাআংঙ্গুল দেখিয়ে নিয়ম না মেনেই এই ফিড মিল চালু রেখেছেন মোফাজ্জল হোসেন। এতে করে পরিবেশ দুষণ, শব্দ দুষণ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শতশত পরিবার। এছাড়া মিলের ব্যাবহৃত দ্রব্য হতে দুগন্ধ নি:সরনের নাই সঠিক ব্যবস্থা। যার কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির আশেপাশে থাকা অসংসখ্য মানুষ।
 
বিএসটিআই প্রজ্ঞাপন জারি করে বলেন, পোলট্রি ও ফিশ ফিড পণ্যের বিক্রি, বিতরণ ও বাণিজ্যিক প্রচারণার আগে মান নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক । বিএসটিআইর মান সনদ (লাইসেন্স) ছাড়া এসব পণ্য বিক্রি করতে পারবে না কোনো প্রতিষ্ঠান। তবে বিএসটিআইর এই নির্দেশনাকে অমান্য করে রাসায়নিক, অণুজীব, দূষক, কীটনাশকসহ বিভিন্ন ধরনের মান নিশ্চিত না করে এই প্রতিষ্ঠানটি মাসের পর মাস ধরে ফিড বাজার জাত করে আসছে।
 
রাজশাহী বিএসটিআই বিভাগীয় অফিসের পরিচালক খলিলুর রহমান জানান, এই প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমোদন ও তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা দ্রুত তার প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো বলে জানান তিনি।
 
রাজশাহী কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মাহ্ফুজুর রহমান ভূইয়া জানান, শ্রমিক যেখানে কাজ করেন সেখানে আমরা তাদের সুরক্ষা ও শ্রম আইন অনুযায়ি নির্দেশনা প্রদান করে থাকি। এই প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী আমাদের শ্রম পরিদর্শক সেখানে পরিদর্শন করবেন। তাদের অনিয়ম পেলে আমরা আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করবো বলে জানান তিনি।
 
স/মা