রাজশাহী-ঢাকা পণ্য পরিবহনে ১৬ স্পটে চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:০৭ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার | আপডেট: ০৬:১০ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বুধবার

রাজশাহীর আড়ত থেকে মাছ এবং সবজি নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন ঢাকায় যান। কিন্তু রাজশাহী থেকে ঢাকায় যেতে ট্রাক চালককে অন্তত ১৬টি স্থানে চাঁদা দিতে হয়। কয়েকটি স্থানে শ্রমিক সংগঠনের নামে চাঁদা নেওয়া হলেও বেশিরভাগ স্থানেই টাকা আদায় করে পুলিশ।

রাজশাহীর চাষি, ব্যবসায়ী এবং ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়কে পুলিশ থামালে বেশিরভাগ চালকই কোনো কথা না বলে টাকা বের করে দেন। পুলিশ টাকা নিয়ে সরে দাঁড়ায়। কিন্তু কেউ টাকা কম দিলেই বাধে বিপত্তি। গাড়ি সাইড করে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ঝামেলা এড়াতে চালকরা চাহিদামতো টাকা দিয়ে দেন। স্পটে স্পটে কমপক্ষে ৫০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় তাদের। আবার মামলার ভয় দেখিয়ে কখনো কখনো এক স্থানেই আদায় করা হয় ৫০০ টাকা। এই টাকা ভাড়া হিসেবে ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই নেন চালকরা।

মাছ ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর পশ্চিমপ্রান্ত কাশিয়াডাঙ্গা মোড় থেকেই চাঁদা আদায় শুরু হয়। কিছু দূর না আসতেই আমচত্বর এলাকায় আবার চাঁদা দিতে হয়। খড়খড়ি আড়ত থেকে গাড়ি ছেড়ে পুঠিয়া উপজেলায় প্রবেশের আগেই বেলপুকুর সড়কের যে কোনো ফাঁকা স্থানে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পুলিশ দাঁড়িয়েই থাকে।

এরপর পুঠিয়া উপজেলা সদর, নাটোরের তেবাড়িয়া মোড়, কাছিকাটা, চৌরাস্তা মোড় ও বনপাড়ায় চাঁদা দিতে হয়। চলনবিলের ভিতর ফাঁকা স্থানে হাইওয়ে পুলিশকেও একবার চাঁদা দিতে হয়। যাত্রাপথে আবার সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে, টাঙ্গাইল সদর, এলেঙ্গা, মির্জাপুর, চন্দ্রা ও আশুলিয়ায় চাঁদা দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি চাঁদা দিতে হয় নাটোরের ভিতর। এই এলাকায় দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশ খুবই বেপরোয়া।

রাজশাহীর ট্রাকচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা না দিলে মাছ আর সবজিভর্তি ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ। তাই ঝামেলা এড়াতে পুলিশের সংকেত দেখলেই তিনি পকেটে হাত দিয়ে টাকা বের করে রাখেন।’

রাজশাহীর কাটাখালী এলাকার পিকআপের মালিক মো. বাদল জানান, ‘ঢাকায় মাছ নিয়ে যাওয়ার ভাড়া এখন সাড়ে আট হাজার টাকা। পথে চাঁদা না লাগলে ছয় হাজার টাকাতেই ঢাকা যাওয়া যেত।’

পথের এমন চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘কে কোথায় চাঁদা আদায় করে তা আমার জানা নেই। তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেব।

স/র