রাবির ৭৫৩ একরে স্বপ্নের সন্ধান

রাজিয়া সুলতানা, রাবি

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩৪ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সোমবার

সৌন্দর্যের লীলাভূমির কথা বলতে গেলেই যে জায়গাটি চোখে ভেসে ওঠে সেটি হলো প্রাচ্যের ক্যাম্ব্রিজ খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার পদযাত্রা করে। যাত্রাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাধীনতা আন্দোলনের শুরু এখন অবধি বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান কোন অংশেই কম নয়। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আত্ম উৎসর্গের মতো অদ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই ।


ইতিহাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার, পাঠদানের জন্য উপযুক্ত শ্রেণীকক্ষ, গবেষণাগার, খেলারমাঠ, স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল,শহীদ মিনার, আবাসিক হল প্রভৃতি। উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠে প্রতিবছরই আগমন ঘটে নতুন কিছু মুখের। তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের আকাশসম স্বপ্ন ছোঁয়ার অন্যরকম অনুভূতি, পাশাপাশি উচ্চাকাক্সক্ষা কিংবা বলা যেতে পারে স্বপ্নের শিখরে পৌঁছানোর এক ধাপ অতিক্রম করতে পারার জয়ধ্বনী বিরাজ করছে।

‘বিশ্ববিদ্যালয় নাকি প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনকে নতুন রূপ দিতে পারে। এমনটি শোনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব বলে সংকল্প করেছিলাম। সেখান থেকেই আজকের এখানে। গোছানো একটা ক্যাম্পাস পেয়ে অনেক ভালো লাগছে’- এমনটাই বলছিলেন ফোকলোর বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম।

ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাাইব্রেরি ম্যানেজমেন্টে ভর্তি হওয়া মারুফ বলছিলেন, ‘পড়ালেখা করতে একদমই ভালো লাগতো না। গ্রামের এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বিশ^বিদ্যালয় সম্পর্কে জানতে পারলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প শুনে মনে মনে সংকল্প করে নিলাম যে করেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে। সেখান থেকেই যাত্রা আমার। আর এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।’

একেকজন একেক স্বপ্ন নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে। একটা সময়ে এই নবীন শিক্ষার্থীদের নামের পাশে যুক্ত হয় প্রবীণ শব্দটি। পড়ালেখা শেষ করে নতুন ঠিকানার খোঁজে ছুটতে হয় তাদের। অজান্তেই তাদের কানে ভেসে আসে ‘সেই সাত জন নেই আজ, টেবিলটা তবু আছেসাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই, একই সে বাগানে আজ, এসেছে নতুন কুঁড়ি,শুধু সেই সেদিনের মালী নেই’-গানটির মতো নতুন কুঁড়ি ফুটেছে ক্যাম্পাসে, পুরাতনরা চলে গেলেও সেই পেয়ালা আজও তেমনি আছে, চায়ের কাপে চুমুক পড়ছে নব্যদের।

এভাবেই প্রতিদিন নতুন নতুন গল্পের সৃষ্টি হচ্ছে ৭৫৩ একরে।

এন/কে