শ্রমিক নেতা নুরুল হত্যার এজাহার বদলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৮:১৬ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহার বদল করার অভিযোগ করেছেন নিহতের কন্যা নিগার সুলতানা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর মেট্টোপলিটন প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ আনেন।

নিগার সুলতানা বলেন, গত ২৪ এপ্রিল রাজশাহী জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে তার বাবা নুরুল ইসলাম বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে ক্ষমতার জোরে পুঠিয়া থানার ওসি সাকিল উদ্দীন আহমেদ, ওই নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ফারুক ও মাসুদ তার বাবাকে পরাজিত দেখান। এঘটনায় তার বাবা নুরুল ইসলাম আদালতে মামলা করলে গত ১০ জুন আদালত নবনির্বাচিত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা করে।

ওই কাগজ শ্রমিক অফিসে জমা দিতে গেলে মাসুদ, ফারুক ও মিঠু তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেন। ওই দিন রাতেই তার বাবা নুরুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে তার বাবার লাশ পাওয়া যায় পুঠিয়া সদরের একটি ইটভাটায়।

নিগার সুলতানা আরো অভিযোগ করেন, পুলিশ এ হত্যাকান্ড ভিন্নখাতে নিতে জীবন (১৪) নামের এক কিশোরকে আটক করে নির্যাতন চালিয়ে তার স্বীকারোক্তি নিয়েছে পুলিশ। তার মুখ থেকে স্বীকারোক্তি দেয়া হয় সমকামিতার কারণে ওই কিশোর তার বাবাকে হত্যা করেছে।

নিগার দাবি করেন, কিশোর জীবনের পক্ষে একা তার বাবাকে হত্যা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জীবনের মা কাঞ্চন বলেছেন, তার কিশোর সন্তানকে পুলিশ ব্যাপক নির্যাতন করে এই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। সে তার মাকে বলেছেন, নুরুল ইসলাম তার নানা। সে তার নানাকে হত্যা করেনি।

এই স্বীকারোক্তি দিতে পুলিশ তার উপর চরম নির্যাতন করেছে। তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিগার দাবি করেন, তাদের পক্ষে কাজ করায় শরিফুল ইসলাম নামের শ্রমিক ইউনিয়নের এক সদস্যর পা ভেঙ্গে দিয়ে মাসুদের ক্যাডার বাহিনী। এছাড়া তাদের পক্ষে কাজ করায় ব্যারিস্টার আবু বাক্কার সিদ্দিক রাজন নামের এক আইনজীবিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। মঙ্গলবার সেই মামলায় রাজশাহীর আদালতে হাজিরার দিন ছিল ব্যারিস্টার রাজনের। নিগার সুলতানা এহত্যাকান্ডের ন্যয্য বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, নিহত নুরুলের স্ত্রী, এঘটনায় গ্রেফতার কিশোর জীবনের মা কাঞ্চন, এঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার শ্রমিক শরিফুল ইসলাম প্রমূখ।