সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পিএম, ১০ মে ২০২০ রবিবার

নাটোরের সাবেক সংসদ সদস্য প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আর নেই। তিনি রবিবার দুপুর ৩ টার দিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন।

নলডাঙ্গার এই কৃতি সন্তান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও নোটোর জজ কোর্টের আইনজীবী।

রোববার রাত ১০টায় পটুয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে তাঁর জানাজা শেষে নাটোর শহরের গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।

প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন।

১৯৬০ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছিলেন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের সময়েও তিনি ছিলেন রাজনীতির মাঠে।

১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জনমত সংগঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরোটাই যুদ্ধের মাঠে কাটিয়েছেন।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সংসদের কনিষ্ঠতম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জাতীয় চারনেতার একনেতা এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন সাইফুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতের পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তাঁকে কিছুদিন কারাভ্যন্তরে থাকতে হয়।

খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার শাসনবিরোধী আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

নাটোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাঁরা নিবেদিতপ্রাণ বলে পরিচিত তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম অন্যতম প্রধান। সকল প্রতিকূলতাঁর মধ্যেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি তিনি।

তাঁর চেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নাটোরের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যাঁদের সুনাম রয়েছে, তিনি তাদের অন্যতম একজন। গত ২৩ জানুয়ারী মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে তিনি ঢাকার শেরেবাংলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর একটু সুস্থ্য হলে তাঁকে নাটোরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবার অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাঁকে আবারো রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

সাইফুল ইসলামের মৃতুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল, নাটোর ও নওগাঁ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রত্না অহমেদ, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান, জজ কোর্টের পিপি ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও নাটোর পৌর সভার মেয়র উমা চৌধুরী জলি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও নাটোর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান, নাটোর আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট প্রসাদ কুমার তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মালেক শেখ, বড়াইগ্রম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শুকুর, সাধারন সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মুকু, নলডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম পিয়াস, সাধারন সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

স/এমএস