সোনামসজিদ বন্দরে ১৬দিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ: বেকার ৪ হাজার শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩১ পিএম, ২ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ১৬ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ভারতীয় পাথর আমদানি। সেসাথে বন্ধ রয়েছে ভারতীয় নিষেধাক্কার কারনে পেঁয়াজ রপ্তানী। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছে বন্দর সংশ্লিষ্ট ৪ হাজার শ্রমিক।

এ বন্দরে প্রধান আমদানি পণ্য তালিকায় রয়েছে ভারতীয় পাথর ও এরপরই রয়েছে পেঁয়াজ। তবে পেঁয়াজ আমদানীতে শুল্ক না পেলেও পাথরে সরকার ব্যাপক হারে শুল্ক পেত। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্থলবন্দরটি দিয়ে পাথর আমদানি বন্ধ থাকার ফলে এই সময়ে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। সে সাথে এ ২টি পণ্য লোড আনলোডে শ্রমিকরা স্বাচ্ছন্দে চলতে পারত।

জানা গেছে, পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বন্দর ট্যারিফ বাড়িয়ে দেয়ায় আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছে। 

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক পাথর ও ফ্লাই অ্যাশ আমদানি হয়। সরকারি রাজস্ব বাদেও এতদিন ট্রাক প্রতি বন্দর ট্যারিফ হিসেবে ৭৮৩ টাকা দিয়ে আসছিল আমদানিকারকরা। এই টাকার মধ্যে ৪৯ শতাংশ যেত সরকারি কোষাগারে। বাকি ৫১ শতাংশ পেত পানামা। কিন্তু ১৪ নভেম্বর হঠাৎ করেই বন্দর ট্যারিফ টনপ্রতি ১৬২ টাকা নির্ধারণ করে মৌখিক নির্দেশনা দেয় পানামা। একই সঙ্গে পানামার ভেতরে পণ্য খালাসের নির্দেশনাও দেয় তারা। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ। কিন্তু এর সমাধান না হওয়ায় গত ১৭ নভেম্বর থেকে পাথর আমদানি বন্ধ করে দেয় তারা। 

আমদানিকারকরা বলছেন, বন্দর চালুর পর থেকেই অবকাঠামো উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখেনি পানামা। উল্টো বন্দরের অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তাদেরকে বাইরে মালামাল খালাস করতে হচ্ছে।

আমদানিকারকরা আরো বলছেন, ভারতীয় মহদীপুর প্রান্তে অতিরিক্ত খরচ, ডাম্পিং, পাথরের গুণগতমান, ধুলাবালি মিশ্রিত পাথর, একাধিক সাইজের মিশ্রিত পাথরসহ নানা অসুবিধায় এতদিন চরম বেকায়দায় ছিলেন তারা। এর সঙ্গে নতুন করে পানামা অতিরিক্ত ট্যারিফ সংযোজন ও বন্দরের ভেতরে পণ্য খালাসের ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবসায় লোকসান ঠেকাতে বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছেন বলে জানান তারা।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সদস্য আসাদুল হক জানান, এতদিন ট্রাকপ্রতি ট্যারিফ ৭৮৩ টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু পানামা কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করেই ট্যারিফ টনপ্রতি ১৬২ টাকা নির্ধারণ করে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে। এই বন্দরে বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে আমাদের। তার ওপর অতিরিক্ত ট্যারিফ নির্ধারণ ব্যবসায়ীদের আরো সংকটে ফেলবে। লোকসান ঠেকাতে বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা যেমন আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, তেমনি সরকারও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। 

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি মাশুল দিতেই হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে তিনি বলেন, ভারতীয় মহদীপুর প্রান্তে অতিরিক্ত খরচ, ডাম্পিং, পাথরের গুণগতমান, ধুলাবালি মিশ্রিত পাথরসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে এখানকার আমদানিকারকদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। তাই নতুন করে ট্যারিফ আরোপে আমদানিকারকরা বেকায়দায় পড়েছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান আরো বলেন, ভারতীয় অংশে খরচ কমে গেলে পানামার নতুন ট্যারিফ দিতে আমদানিকারকদের কোনো অসুবিধে হবে না। বিষয়টি নিয়ে ওপারে চিঠি দেয়া হয়েছে এবং কথোপকথন চলছে। 

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন বলেন, ট্যারিফ সংযোজন পানামার নিজস্ব কোনো বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত।

বেলাল হোসেন আরো জানান, গত ১৪ নভেম্বর সোনামসজিদে স্থালবন্দরে এসেছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) ড. শেখ আলমগীর হোসেন। তিনি বন্দর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন এবং এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করে যান। এরপরই ট্যারিফ সংযোজনের নির্দেশনা দেয়া হয়।

অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যাপারে পানামার এ কর্মকর্তা আরো বলেন- সরকরের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক ১৯ দশমিক ১৩ একর জায়গায় ট্রাক লোড আনলোড করা হয়। এতে কোনো ধরনের সমস্যা হয় না। 

অপরদিকে শ্রমিক নেতা সাদেকুর রহমান মাষ্টার জানান, বন্দরে একেবারেই ব্যবসা নাই। বন্দর দিয়ে পাথর ও পেঁয়াজ সহ অন্যান্য পন্য আমদানী থাকা কালে দিনে গড়ে ৫শ ভারতীয় ট্রাক প্রবেশ করত।কিন্তু বর্তমানে সারাদিনে সব্বোর্চ্চ ১৫-২০ টি পন্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে।এতে করে বন্দর অভ্যান্তরের ও বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে।