Advertisement

সৌন্দর্য ও ভালোবাসার প্যারিস

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৬:৩৫ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯ শুক্রবার

প্যারিস রোড। নাম শুনলেই স্বপ্নের মতো মনে হয়। কল্পনায় ফুটে ওঠে ফ্রান্সের কোনো এক রাস্তা। অবশ্য রাস্তাটি দেখলেও তাই মনে হবে। কিন্তু না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে শের-ই-বাংলা হল পর্যন্ত যে রাস্তাটি চলে গেছে সেটিই প্যারিস রোড নামে পরিচিত। রাস্তাটির দুপাশে চোখ ধাঁধানো গগনশিরীষ গাছ।

পিচঢালা রাস্তার দুপাশের এই আকাশচুম্বি গাছগুলো কেবল সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, লালন করে ক্যাম্পাসের বহু ইতিহাস আর ঐতিহ্য। আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমী হাজারো মানুষকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে ক্যাম্পাস ছেড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। প্রকৃতির অপার নিয়মে আজ তারা অনেকেই বৃদ্ধ হয়েছেন। তবু বৃদ্ধ হয়নি চিরযৌবনা প্যারিস রোড। আর সে কারণেই প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজও এই প্যারিস রোডের টানে ক্যাম্পাসে আসেন।

সবুজ বাংলাদেশের বুক চিরে জন্ম নিয়েছে হাজারো প্রজাতির গাছ, শোভিত করেছে বহু রাস্তা। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগে রাবির ক্যাম্পাসে রোপণ করা কিছু চারা যে মহীরুহে পরিণত হবে তা হয়তো ভাবেনি কেউ। বাহারি ডালে সজ্জিত কচি পাতার গগনশিরীষ গাছগুলো প্যারিস রোডকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। বিশ্ববিদ্যালয়টি পেয়েছে এক অসাধারণ উজ্জ্বলতা। প্রকৃতিকে করেছে চির যৌবনা।

দর্শনার্থীদের ধারণা, দেশের অন্য কোনো শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে এমন সুউচ্চ গাছের সৌন্দর্যময় বিন্যাস আর নেই। সে কারণেই এটি দেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৯৬৫ সালের দিকে তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর এম শামসুল হক ফিলিপাইন থেকে কিছু গাছ নিয়ে আসেন। রোপিত হয় এই রাস্তাটির দু-ধারে। গাছগুলোর উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এর সৌন্দর্য। প্রকৃতির অপরূপ শোভায় শোভিত হয় পুরো রাস্তা।