‘হলেই থাকছে রাকসুর ভোটকেন্দ্র’

নুরুজ্জামান খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০১:২৭ পিএম, ১৪ মে ২০১৯ মঙ্গলবার | আপডেট: ০১:৩২ পিএম, ১৪ মে ২০১৯ মঙ্গলবার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে আবাসিক হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি। সোমবার দুপুরে নিউজ রাজশাহী’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান কমিটির আহ্ববায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। যদিও ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি ব্যতীত প্রায় ১৮টি ছাত্র সংগঠন একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য দাবি জানিয়েছে।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘রাকসুর গঠনতন্ত্রে ভোটকেন্দ্র হলে রাখার কথা রয়েছে। রাকসুর নীতিমালা ভঙ্গ করে একাডেমিক ভবনে আনার মতো সুযোগ নেই। তাছাড়া সতেরটি হলের এতো শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ভবনে নিয়ে এসে ভোট গ্রহণ করতে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।’

হলে নির্বাচনের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রমজানের পরে কমিটি হল প্রাধ্যক্ষদের সাথে আলোচনায় বসবে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের মতামত এবং তাদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করা হবে।

অধিকাংশ ছাত্র সংগঠনের দাবি উপেক্ষা করে হলে নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো রাকসুর গঠনতন্ত্র বাদ দিয়ে কাজ করতে পারি না। গঠনতন্ত্রে নেই এমন কোনো যৌক্তিক দাবিকে গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত করা যায়; কিন্তু গঠনতন্ত্রে যেটি রয়েছে সেটি তো বাদ দেওয়া যায় না। তাছাড়া হল সংসদ নির্বাচন তো হলেই হয়; তাহলে দুই জায়গায় ভোট নেওয়া কি সম্ভব?’

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন কালক্ষেপন করছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কমিটির আহŸায়ক বলেন, হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠন ছাড়া বেশির ভাগ সংগঠনের সদস্যই নেই। আমরা সংলাপে একটি সংগঠনের সাতজন প্রতিনিধি হাজির হতে বলেছি; অনেক সংগঠন তাদের সাতজন প্রতিনিধি নিয়েও আসতে পারেনি। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। ছাত্র সংগঠনগুলোতে কর্মী নেই, তারা যদি নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে না পারে তাহলে নির্বাচন দিয়ে কি হবে?

ভোটার তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি শুধুমাত্র নিয়মিত শিক্ষার্থীদেরকে ভোটার রাখার জন্য। এমফিল, পিএইচডি বা সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের ভোটার রাখা হবে না।

রাকসু নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সংলাপ কমিটির আহ্ববায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন নিয়ে খুবই আন্তরিক। কমিটি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সাথে সংলাপ শেষ করেছে। দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো জানানো হবে। সংগঠনগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে প্রয়োজন হলে রমজানের ছুটি শেষে আবার বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আলোচনায় বসা হবে।

এদিকে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে দাবি করছে অনেক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। প্রয়োজনে রাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র দলের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সবার কাছে যেটা গ্রহনযোগ্য হবে প্রশাসনকে সেটিই করতে হবে। তারা গঠনতন্ত্রের কথা বলেছে; গঠনতন্ত্র যখন তৈরি হয়েছে তখন ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান ছিলো। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ আগের মতো নেই। বর্তমান প্রেক্ষিতে রাকসুর পুরনো গঠনতন্ত্র সংশোধন করে একাডেমিক ভবনেই ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন বলেন, দীর্ঘদিন রাকসু নির্বাচন না হওয়ায় হলে এক ধরনের দখলদারিত্ব তৈরি হয়েছে। এমন পরিবেশে হলে নির্বাচন হলে তা কখনো সুষ্ঠু হবে না। রাকসুর গঠনতন্ত্র অনেক পুরাতন প্রয়োজন বোধে এটার সংশোধন করা দরকার। গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করলে নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের আস্থা বাড়বে।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে আহ্ববায়ক করে চার সদস্যবিশিষ্ট ‘রাকসু নির্বাচন সংলাপ কমিটি’ গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মীর ইমাম ইবনে ওয়াহিদ ও সহকারী প্রক্টর আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার। কমিটি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কাছ থেকে তাদের গঠনতন্ত্র আহ্বান করলে ২২টি ছাত্রসংগঠন তাদের গঠনতন্ত্র জমা দেয়। কমিটি এসকল সংগঠনের সাথে সংলাপ শেষ করেছে ৬ মে।