২৬৮ কোটি টাকার হাইটেক পার্ক রক্ষায় রাজশাহীতে দুটি বালুমহল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজরাজশাহী.কম

প্রকাশিত : ০৭:৩১ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০ বুধবার

রাজশাহীর হাইটেক পার্ক এলাকায় লাল নিশান টানিয়ে পদ্মা নদীর নবগঙ্গা ও সোনাকান্দি চর থেকে বালু তোলা বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পবা উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) আবুল হায়াত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি চরে লাল নিশান টানিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার খবর পেয়ে আগেই বালু উত্তোলনকারি লোকজন পালিয়ে যায়। আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে তারা এই দুই চর থেকে বালু উত্তোলন করছিল।

বালুমহাল দুটির ইজারাদার ছিলেন, রজব আলী ও আনোয়ার হোসেন। তারা এই দুটি বালুমহাল লিজ নিয়ে শর্ত ভেঙ্গে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধের নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এদের মধ্যে রজব আলী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং আনোয়ার হোসেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আবুল হায়াত বলেন, নিয়ম ভেঙ্গে পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধের পাশ থেকে বালু তোলা হচ্ছিল। এতে হুমকির মুখে পড়ে হাইটেক পার্ক রক্ষায় ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মার তীররক্ষা বাঁধ। এ নিয়ে আদালত ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা ছিল। সেই নির্দেশনা অমান্য করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী নবগঙ্গা ও সোনাইকান্দি চর থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে লাল নিশান টাঙ্গিয়ে দিয়েছি। এরপর সেখান থেকে কেউ যদি বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী বলেন, ‘নবগঙ্গা বালু মহালটি আমার লিজ নেয়া। কিন্তু জেলা প্রশাসন থেকে আমাদেরকে বলা হয়েছে দেড় কিলোমিটার দুর থেকে বালু উত্তোলন করতে। সেখানে পদ্মার পানি এবং ভারতের সীমান্ত। সেখান থেকে বালু তোলা সম্ভব নয়। তাই উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছি।

এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বালু মহলের অপর ইজারাদার আনোয়ার হোসেন ফোন ধরেননি।